Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

একদিনের বাদশা

আরব্য রজনীর উপন্যাসে একদিনের সম্রাটের কাহিনি শোনা যায়। ‘নায়ক’ সিনেমায় অনিল কাপুরের একদিনের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার গল্পও সবাই দেখেছেন। মুঘল আমলেও প্রচলিত এমনই এক রোমাঞ্চকর কাহিনি শোনা যায়। সেই কাহিনির নায়ক এক ভিস্তিওয়ালা।

একদিনের বাদশা
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
Prefer us on Google
আরব্য রজনীর উপন্যাসে একদিনের সম্রাটের কাহিনি শোনা যায়। ‘নায়ক’ সিনেমায় অনিল কাপুরের একদিনের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার গল্পও সবাই দেখেছেন। মুঘল আমলেও প্রচলিত এমনই এক রোমাঞ্চকর কাহিনি শোনা যায়। সেই কাহিনির নায়ক এক ভিস্তিওয়ালা। চামড়ার থলিতে যাঁরা জল ভরে বয়ে নিয়ে যান, তাঁরাই পরিচিত ছিলেন ওই নামে।
Advertisement
১৫৩০ সালের ডিসেম্বর। বাবরের মৃত্যুর পর তখতে বসেছেন হুমায়ুন। মসনদে বসলেও সেই সময় পূর্ব ভারতের আফগান নেতা শের খান বা শের শাহ রীতিমতো বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন। শের শাহ ছিলেন ধুরন্ধর সেনাপতি। ১৫৩৯ সালের জুন মাসে বাংলা থেকে ফেরার পথে বিহারের চৌসায় মুঘল বাহিনীকে অতর্কিত হানায় নাস্তানাবুদ করে তোলে শের খানের বাহিনী। প্রাণ বাঁচাতে ভরা বর্ষায় গঙ্গায় ঝাঁপ দেন হুমায়ুন। নদীর উত্তাল ঢেউয়ে ভাসতে ভাসতে তখন অবসন্ন বাদশাহ। মনে হচ্ছিল, এবার বুঝি ডুবেই যাবেন। সেই সময় একটা নৌকার মাঝি রক্ষা কর্তা হয়ে ওঠেন। তাঁর নাম নিজাম। পেশায় ভিস্তিওয়ালা। হাবুডুবু অবস্থায় হুমায়ুনকে দেখে নিজের ভিস্তি বা মশক ছুড়ে দেন তিনি। তারপর নিজামের নৌকায় উঠে কোনওক্রমে প্রাণ বাঁচান সম্রাট। নিজামের জানা ছিল না যে, তিনি মুঘল সম্রাটের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। হুমায়ুন নিজেই সেকথা জানিয়ে তাঁকে বলেন, তুমি আমার জীবন বাঁচিয়ে দিলে। আমি সিংহাসন ফিরে পেলে তোমাকে একদিনের জন্য হলেও বাদশা করব। 
পরের বছরই কনৌজের যুদ্ধে শের খানের কাছে হেরে হিন্দুস্তানের মসনদ হারালেন হুমায়ুন। তার পরও সাম্রাজ্য ফিরে পাওয়ার লড়াই চালিয়ে যান। ১৫৫৫ সালে ফের মসনদ ফিরে পান তিনি। আর হুমায়ুন ফের তখতে বসেছেন খবর পেয়ে নিজাম হাজির হলেন আগ্রার মুঘল দরবারে। হুমায়ুন তাঁর প্রতিশ্রুতির কথা ভোলেননি। নিজামকে একদিনের জন্য শাহি কুর্সিতে বসিয়েছিলেন। ওই দিন  মশক টুকরো টুকরো করে নিজের নাম ও রাজ্যাভিষেকের দিন খোদাই করে চামড়ার মুদ্রা চালু করেছিলেন তিনি। মৃত্যুর পর তাঁকে আজমিরে সমাধিস্থ করা হয়।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ