গির্জায় প্রার্থনা। সঙ্গে ভরপুর আনন্দ। বড়দিনের কথা ভাবলে সবার প্রথমে মাথায় আসে এই ছবিটাই। ২৫ ডিসেম্বর কলকাতার বিভিন্ন গির্জায় তৈরি হয় এক স্বর্গীয় পরিবেশ। ব্রিটিশ থেকে পর্তুগিজ—ইউরোপ থেকে এই শহরে এসেছেন বহু মানুষ। তৈরি করেছেন উপাসনালয়। এসবের মধ্যেই অন্যতম কালীঘাটের গ্ৰিক অর্থোডক্স চার্চ। যার সঙ্গে জড়িয়ে প্রায় ১০০ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাস।
Advertisement
তথ্য বলছে, ১৭৬৮ থেকে ১৭৭৮ সালে ইউরোপে রুশদের সঙ্গে যুদ্ধ হয়েছিল অটোমান সাম্রাজ্যের। লড়াইয়ে জয়ী হয় রাশিয়া। যার ফলে বহু তুর্কি ও গ্ৰিক নাগরিক দেশ ছেড়ে চলে এলেন পূর্বদিকে। বলা ভালো, কলকাতায়। জাহাজ তৈরি থেকে একাধিক ব্যবসায় সিদ্ধহস্ত ছিলেন গ্ৰিকরা। তাই কলকাতায় নতুন জীবন শুরু করতে খুব একটা সমস্যা হল না। নতুন থাকার জায়গা তো হল। কিন্তু উপাসনা কোথায় হবে? সেই তাগিদ থেকেই অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি ক্যানিং স্ট্রিটের মুরগিহাটায় তৈরি হল গ্ৰিকদের প্রথম গির্জা। কয়েক বছর পরে উত্তর কলকাতার আমড়াতলা স্ট্রিটে আরেকটি গির্জা বানালেন গ্ৰিকরা। নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস। ১৭৮১ সালের ৬ আগস্ট থেকে এখানেই যিশুখ্রিস্টের আরাধনা করতেন কলকাতায় বসবাসকারী গ্ৰিকরা। ১৯২৪ সালে আমড়াতলার গির্জা বন্ধ হয়ে যায়। পরিবর্তে কালীঘাটে গ্ৰিক মন্দিরের আদলে তৈরি হল নতুন উপাসনালয়। নাম—গ্ৰিক অর্থোডক্স গির্জা। এই নতুন গির্জার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল ১৯২৪ সালের ৩ নভেম্বর। ১৯২৫ সালের ১৯ নভেম্বর হয়েছিল দ্বারোদ্ঘাটন। গির্জা তৈরির জন্য আর্থিকভাবে সাহায্য করেছিল প্রতিষ্ঠিত গ্ৰিক ব্যবসায়ী সংস্থা রালি ব্রাদার্স। তারপর কেটে গিয়েছে একশো বছর। শহরে আজ গ্ৰিকদের সংখ্যা হাতেগোনা। নেই বললেই চলে। তবে কালীঘাটের এই গির্জার সামনে দাঁড়ালেই যেন এক টুকরো গ্ৰিস দেখা যায়।



