Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

এক ‘বঞ্চিত’ লেখিকা

এক ‘বঞ্চিত’ লেখিকা
  • ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
‘এখন কি সেই রূপ ভালবাস মোরে/ এখন কি দয়া হয়, এখন মমতা ময়/ আছে কি হৃদয় তব এ দাসীর তরে।।’
Advertisement
‘বাসনা’ কাব্যগ্রন্থে এই ‘অনুতাপ’ বিনোদিনী দাসীর। কোনও একজনের কাছেই কি তাঁর এই প্রশ্ন, নাকি সমস্ত দর্শকের প্রতি? তাঁদের প্রতি, যাঁরা নিঙড়ে নিয়েছিলেন বিনোদিনীকে? উত্তর নেই। থাকার কথাও নয়। কেবল তাঁর প্রতি বঞ্চনার শতশত অভিযোগের মধ্যে এটুকু বলাই যায়, তিনি স্বীকৃতি পাননি লেখিকা হিসেবেও। বাংলা ১৩১৯ সনে গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয়েছিল ‘আমার কথা’। স্বয়ং বিনোদিনী দাসীর আত্মকথা। তখন তিনি নাটক-থিয়েটার থেকে বহু ক্রোশ দূরে। এর থেকে প্রায় ১৭ বছর আগে তাঁর লেখা প্রথম কবিতা প্রকাশ পায় গিরিশ ঘোষ সম্পাদিত ‘সৌরভ’ পত্রিকায়। এরপর ৪১টি কবিতা নিয়ে ১৩০৩ সনে (ইং ১৮৯৬) প্রকাশিত হয় বিনোদিনীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বাসনা’। দ্বিতীয়টি অর্থাৎ ‘কনক ও নলিনী’র প্রকাশ ১৯০৫ সালে। কেবল কবিতা? না, সেই সময়ের একাধিক সাময়িক পত্রিকায় লিখতেন নাটক ও রঙ্গালয় সম্পর্কে। তাঁর লেখা ছিল অত্যন্ত সুখপাঠ্য, সহজ ও ঝরঝরে। ১৯১০ সালে অমরেন্দ্রনাথ দত্তের ‘নাট্যমন্দির’ পত্রিকায় আত্মকথা রচনার সূচনা। নাম ছিল ‘অভিনেত্রীর আত্মকথা’। যদিও বেশিদিন চলেনি সেই ধারাবাহিক। দু’টি সংখ্যার পর বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রকাশিত হয় ‘আমার কথা’। বিনোদিনীর ভাষায়, ‘কখনও অভিনয় কার্য্যে অমনোযোগী হই নাই।... অভিনয়ই আমার জীবনের সার সম্পদ ছিল।’ এরপর ‘রূপ ও রঙ্গ’ পত্রিকায় লিখেছেন ‘আমার অভিনেত্রী জীবন।’ এটিও অসম্পূর্ণ। বারাঙ্গনা নটীর এই লেখক-সত্তা চমক দেয়। শিহরণ জাগায়। তবু তা নিয়ে চর্চা? হয় না। বিনোদিনী মঞ্চসফল অভিনেত্রী। পোশাক, রূপসজ্জা নিয়ে অসাধারণ জ্ঞানের অধিকারিনী। আর লেখিকা বিনোদিনী? তিনি তো বঞ্চনার অপর নাম। আজও।
সম্পর্কিত সংবাদ