Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এক কোটি সদস্য সংগ্রহ থেকে উপ নির্বাচন, জোড়া চাপে কাবু বঙ্গ বিজেপি

এক কোটি সদস্য সংগ্রহ থেকে উপ নির্বাচন, জোড়া চাপে কাবু বঙ্গ বিজেপি
  • ১২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাকে দিয়েছ রাজার পাট! বঙ্গ বিজেপির বর্তমান নেতৃত্বের জন্য এমন শব্দবন্ধই উপযুক্ত বলে মনে করছেন দলের আদি নেতাদের একাংশ। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ররিবার একদা ‘হেভিওয়েট’ এক বিজেপি নেতার বক্তব্য, ‘অমিত শাহরা পশ্চিমবঙ্গ থেকে ১ কোটি সদস্য করার টার্গেট দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ১৩ নভেম্বর উপ নির্বাচনে ছ’টির মধ্যে একাধিক বিধানসভায় জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। কিন্তু রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক আবহে জোড়া লক্ষ্যভেদ কার্যত অসম্ভব।’ তাঁর আরও ব্যাখ্যা, ২০১৯ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং ৩০৩টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় মোদি সরকার ক্ষমতায় ফিরেছিল। সেই সময় বাংলার প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ বিজেপির ডাকে সাড়া দিয়ে বিশেষ নম্বরে ‘মিসড কল’ করেছিলেন। তবে বাস্তবে তার অর্ধেকও পার্টির সদস্য হয়েছিলেন কি না, সন্দেহ রয়েছে। কারণ, ‘মিসড কল’ দেওয়া ব্যক্তিদের ফোন করে যাচাই করতে গিয়ে মাথায় হাত পড়েছিল আইটি সেলের কর্মীদের। জানা গিয়েছিল, অধিকাংশ কলই এসেছে খেলার ছলে বা মজা করে। বিরোধীরা সেই সুযোগে বিজেপিকে ‘মিসড কল পার্টি’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। সেই জায়গায় এবার চরম হিন্দুত্বের দামামা বাজিয়ে, রাম মন্দির উদ্বোধন করেও গোটা দেশে বিজেপির ঝুলিতে এসেছে ২৪০টি লোকসভা আসন। তৃতীয় মোদি সরকার শরিক নির্ভরতায় চলছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলায় বিজেপির সদস্য হওয়ার জন্য ঢল নামবে—এমনটা আশা করাই নির্বুদ্ধিতা বলে মনে করছেন তিনি। 
Advertisement
এদিকে, আসন্ন উপ নির্বাচনে ছ’টির মধ্যে পাঁচটি আসনই তৃণমূলের দখলে ছিল। একমাত্র মাদারিহাটে ছিলেন বিজেপির বিধায়ক। সেই ‘পুরনো গড়’ ধরে রাখাই আপাতত চ্যালেঞ্জ গেরুয়া শিবিরের কাছে। কারণ, মনোজ টিগ্গার ছেড়ে যাওয়া আসনে প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে দলের অভ্যন্তরে। এই বিধানসভা কেন্দ্র আলিপুরদুয়ার লোকসভার অধীনে। সেই কেন্দ্রের প্রাক্তন এমপি জন বারলা মোদি মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ লোকসভা ভোটে তাঁকে টিকিট দেয়নি দল। অভিমানে এবারের উপ নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীকেই সমর্থন করছেন বার্লা। চা বলয়ে যাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। স্বভাবতই মাদারিহাট হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন বিজেপির স্থানীয় নেতারা। এই আবহে ২৩ নভেম্বর উপ নির্বাচনের ফল তৃণমূলের পক্ষে ৬-০ হলে রাজ্য বিজেপির বর্তমান ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর ব্যর্থতা আরও প্রকট হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। 
সম্পর্কিত সংবাদ