Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

একে ছুটির দিন তায় মনোরম ঠান্ডা, মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়

একে ছুটির দিন তায় মনোরম ঠান্ডা, মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: মোটামুটি শীত পড়েছে। তায় রবিবারের ছুটি। আর উৎসব মরশুমের শেষ পুজো। এই ত্রহস্পর্শ যোগ ছাড়তে রাজি হয়নি কেউ। ফলে বাঁধভাঙা ভিড়। হুগলির বাঁশবেড়িয়ায় মৃদু রোদে পিঠ সেঁকে দিনভর ঘুরল মানুষ। সন্ধ্যায় গায়ে উঠল সোয়েটার। রাতে ঠান্ডা বাড়ল। কিন্তু ঠাকুর দেখায় কোনও খামতি রাখল না দর্শনার্থীরা। কার্তিক থেকে নটরাজ, তারা মা থেকে কৃষ্ণ-রাধা, কোনও পুজোই বাদ দিল না কেউ। থিম থেকে সাবেক সব ধরনের সব পুজো দেখতে বিকেল থেকে গড়াল রাত, জনস্রোত গড়িয়েই গেল বাঁশবেড়িয়ার পথেঘাটে। বাঁশবেড়িয়ার মতো বিপুল সংখ্যক না হলেও চুঁচুড়াতে বেশ কয়েকটি পুজো হয়। সেখানেও দর্শকদের উৎসাহ ছিল দেখার মতো।
Advertisement
বাঁশবেড়িয়ার কেন্দ্রীয় কার্তিক পুজো কমিটির কর্মকর্তা ও পুরপ্রধান আদিত্য নিয়োগী বলেন, ‘রবিবার ভিড় হবে। প্রত্যাশা ছিলই। প্রশাসন, পুলিস এবং কেন্দ্রীয় কমিটি প্রস্তুত ছিল। কিন্তু প্রত্যাশা ছাপিয়ে ভিড় হল। গভীর রাতেও অলিগলিতে পর্যন্ত ভিড়ের দাপট। চুঁচুড়া, বাঁশবেড়িয়া এবং জেলার শেষপ্রান্ত অর্থাৎ উত্তরপাড়া, জাঙ্গিপাড়া থেকেও মানুষ এসেছিলেন।’ অভিজিৎ মাইতি নামে এক কার্তিক পুজো উদ্যোক্তা বলেন, ‘ছুটির দিন হওয়ায় মানুষ দাপিয়ে শহরময় ঘুরেছে। আমাদের জামাই কার্তিক পুজোতে থইথই ভিড়। বাড়তি স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হয়েছিল।’ জাঙ্গিপাড়া থেকে এসেছিলেন নিতাই সরকার। বলেন, ‘সকাল সকাল পুজো দেখে ফিরে যাব ভেবেছিলাম। কিন্তু ভিড়ের জন্য ঘোরা কমপ্লিট হয়নি। একটি মণ্ডপ ঘুরতেই বহু সময় লেগে গিয়েছে।’ 
মৃদু রোদ ছিল রবিবার। তার উপর মঙ্গলবারই কার্তিকের ভাসান হবে। শোভাযাত্রাও হবে। ফলে রবিবারই হুড়মুড়িয়ে ভিড় বাঁশবেড়িয়া থেকে চুঁচুড়ার মণ্ডপে মণ্ডপে। দুপুরের পর থেকে শুরু। সন্ধ্যা নামতেই বাঁশবেড়িয়ার পথঘাটের দখল চলে গিয়েছিল দর্শকদের হাতে। সাবেক শহরে সরু অলিগলি রয়েছে। সেখানে সামান্য দূরে দূরে পুজো হয়। মনোহর আলোকসজ্জা করে উদ্যোক্তারা। ফলে গলিতে ভিড় বেশি করে বোঝা গিয়েছে। যানবাহন চলাচল করেনি। অররুদ্ধ ছিল রাস্তাঘাট। বাঁশবেড়িয়া তো বটেই চুঁচুড়ার ফেরিঘাটেও তীব্র ভিড়। রবিবার করে ফেরি চলাচল কম হয়। কিন্তু এদিন উল্টো ছবি। বাঁশবেড়িয়ার ফেরিঘাটে বেশি ভিড় বলে চুঁচুড়া দিয়ে বাঁশবেড়িয়া যাওয়ার পরিকল্পনা করেন অনেকে। চুঁচুড়াতেও ফেরিঘাটে ঠাসা ভিড়। প্রচুর লোকজন পুজো মণ্ডপগুলিতেও এলেন। শীত শীত থাকলেও রাতেও স্বেচ্ছাসেবকরা ঘেমে নেয়ে একসা। ভিড়ের কারণে ব্যবসা ভালো হওয়ায় ফুরফুরে মেজাজ ফাস্ট ফুড ব্যবসায়ীদের। প্রবল ভিড় ব্যান্ডেল থেকে বাঁশবেড়িয়া, ত্রিবেণী স্টেশনেও।
সম্পর্কিত সংবাদ