মুম্বই: বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য ১৭ কোটি টাকা দিয়ে বুক করা হয়েছিল জয়পুরের রাজপ্রাসাদ। আমন্ত্রিত ও পরিবারের সদস্যদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল ব্যক্তিগত বিমানেরও। তার আগে বাগদত্তার জন্মদিন পালন করতে পুনেতে ট্রেকিংয়ে গিয়েছিলেন যুবক। কিন্তু সেখানে মর্মান্তিক পরিণতির মুখে পড়তে হল তাঁকে। হবু বরকে খাদে ফেলে খুন করলেন বাগদত্তা ও তার প্রেমিক। এই মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। দু’জনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের সাতদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় আদালত। তবে এই ঘটনায় অনেকেই বছর খানেক আগে মেঘালয়ে ‘হানিমুন মার্ডারে’র ছায়া দেখছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত কেতন আগরওয়াল (২৫) মহারাষ্ট্রের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ীর ছেলে। আগামী নভেম্বরে সিয়া গোয়েল (২০) নামে এক তরুণীর সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছিল তাঁর। সম্প্রতি হবু স্ত্রীর সঙ্গে লোহাগড়ে ট্রেকিংয়ে গিয়েছিলেন কেতন। সেখানে গত ১৮ জুন খাদে পড়ে যান তিনি। পুলিশকে সিয়া জানায়, পা পিছলে খাদে পড়ে গিয়েছেন কেতন। তিন ঘণ্টার চেষ্টায় ব্যবসায়ী-পুত্রের দেহ উদ্ধার হয়। কেতন ট্রেকিংয়ে যথেষ্ট দক্ষ ছিল। তাই মৃত্যুর নেপথ্যে দুর্ঘটনার তত্ত্ব মানতে পারেনি তাঁর পরিবার। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে সন্দেহজনক তথ্য পায় পুলিশ। মোবাইল ডেটা, কল রেকর্ড ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ ঘেঁটে তদন্তকারীদের সন্দেহ হয় সিয়াকে। এরপরই তাঁকে আটক করে চলে জিজ্ঞাসাবাদ। শেষপর্যন্ত অপরাধের কথা সিয়া স্বীকার করেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। পুলিশকে সিয়া জানিয়েছে, কেতনকে তার পছন্দ ছিল না। তাই প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সাহায্যে তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করেছিল সে। প্রি-ওয়েডিং ফটোশ্যুটের জন্য তাদের বালিতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে কেতনের পাসপোর্ট লুকিয়ে রেখে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দেয় সিয়া। এরপরেই লোহারগড়ে ট্রেকিংয়ের সময় কেতনকে খুনের ছক কষে সে। তাদের পরিকল্পনা ছিল, গোটা বিষয়টিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানো হবে। এর আগে ৩১ মে ও ১৪ জুনও ট্রেকিংয়ের সময় কেতনকে খুনের চেষ্টা করা হয়। শেষপর্যন্ত ১৮ জুন ছবি তোলার অছিলায় কেতনকে খাদে ঠেলে দেয় সিয়ার প্রেমিক। মৃত কেতন আগরওয়াল ও তাঁর বাগদত্তা সিয়া গোয়েল। ছবি সমাজমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত।