অভিজিৎ চৌধুরী, চুঁচুড়া : বহু বছর পর আলোর শহর চন্দননগরে নেই ‘আলোর জাদুকর’ বাবু পাল। তাঁর নিপুণ হাতে তৈরি আলোকসজ্জা এরপর আর দেখা যাবে না। আগস্ট মাসে মৃত্যু হয়েছে বাবু পালের। একটি কাজে হাত দিয়েছিলেন। তা শেষ করে যেতে পারেননি। তবে অর্ধসমাপ্ত সেই কাজ এবার আলোকিত করবে বেশোহাটা সর্বজনীনের পুজোকে। অসুস্থ হওয়ার আগে এই একটিই পুজো ও শোভাযাত্রার আলোকসজ্জার দায়িত্ব নিয়েছিলেন বাবু। সেই কাজ অর্ধসমাপ্তই থেকে যেত। তবে শিল্পীর আলোককল্পনাকে বাস্তব রূপ দিতে ময়দানে নেমেছেন তাঁর সুযোগ্য কন্যা সুস্বেতা পাল। বাবার অসম্পূর্ণ পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণ করছেন তিনি। পারিবারিক ব্যবসা বলে শুধু নয়, আলোকে ভালোবেসেই বাবার শিল্পধারাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান মেয়ে। আর স্বামীর ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখতে হাত বাড়িয়েছেন শিল্পীর স্ত্রী চিত্রলেখাদেবীও। একটি শিল্পধারাকে বাঁচিয়ে রাখার এই লড়াইয়ের কাহিনি লেখা চলছে গঙ্গাপাড়ের জনপদে। সুস্বেতা বিবিএ পাশ করেছেন। গত একমাস ধরে দিনরাত পড়ে কারখানায়। তিনি বলেন, ‘বাবা একটি শিল্পধারা তৈরি করেছিলেন। তিনি যে চূড়ান্তস্তরে পৌঁছে দিয়েছিলেন তা এখনই অর্জন করা কঠিন। তবে বাবার কাজ বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের আছে। তাই ভালোবেসে এবার আলোকসজ্জার কাজ করেছি।’ পাল পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছু পরিকল্পনা আগাম করে গিয়েছিলেন বাবু। সেটিকেই এগিয়ে নিয়ে চলছেন তাঁর স্ত্রী-কন্যা। চিত্রলেখাদেবী বলেন, ‘যতটুকু শিখেছি তা উজাড় করে ‘সার্কাস’ থিম তৈরি করছি।’ আলোর জাদুকর বাবুর ‘শেষ কাজ’ নিয়ে আবেগতাড়িত বেশোহাটার পুজো উদ্যোক্তা সুদীপ দাসও। তিনি বলেন, ‘আমাদের পুজো ও শোভাযাত্রার আলোকসজ্জা প্রয়াত শিল্পীর অন্তিম কল্পনার ফসল। তাঁর সুযোগ্য কন্যা সেটি বাস্তব রূপ দিয়েছেন। ‘সার্কাস’ থিমের সাফল্য নিয়ে আমরা আশাবাদী।’
Advertisement
বাবু পাল আলোকশিল্পে হাত পাকিয়েছিলেন যৌবনের শুরুতে। তারপর চন্দননগর ছাড়িয়ে দেশ ও বিদেশও চিনেছে তাঁকে। তাঁর আলোকশিল্প উজ্জ্বল করেছে চন্দননগরকে। দীর্ঘসময় ধরে চন্দননগরে প্রবাদের মতো শোনা যেত, বাবুর আলো মানেই পুরস্কার বাঁধা। মিথ হয়ে যাওয়া সে কথা বহু বছর ধরে চালু রয়েছে। এবার বাবু নেই। তবে না থেকেও রয়ে গিয়েছেন স্বমহিমায়। বিশ্বখ্যাত জগদ্ধাত্রী উৎসবে শেষ চিহ্নের মতো রয়ে যাবে তাঁর কাজ। আলোর শহরে তাঁর আলোর পথযাত্রী স্ত্রী ও কন্যা। তাঁরা শিল্পীর অর্ধসমাপ্ত কাজে কোন মাত্রা যোগ করেন তা দেখার জন্যই অধীর আগ্রহ দর্শকদের।
আলোকসজ্জার কাজে ব্যস্ত বাবু পালের কন্যা। -নিজস্ব চিত্র



