


সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কল্যাণী
ইস্ট বেঙ্গল-৩ : মোহন বাগান-২
(জেসিন, সায়ন, ডেভিড) (লেওয়ান, কিয়ান)
শেষ বাঁশি বাজার আগেই ইস্ট বেঙ্গল গ্যালারিতে জ্বলল মশাল। গনগনে আগুনে স্পর্ধার জয়গান। ফ্লাডলাইটের হাজার ওয়াটের আলোও তার কাছে ম্লান। মরশুমের প্রথম ডার্বি জিতে পাগলপারা লাল-হলুদ ব্রিগেড। ফেন্সিংয়ের জালে উঠে পড়লেন ডেভিডরা। সায়নের হাতে দোল খাচ্ছে বর্ষার তাজা ইলিশ। হোক না দুর্মূল্য। আবেগের কাছে সব তুচ্ছ। সবুজে সবুজ কল্যাণী রাত বাড়তেই লাল-হলুদ। ঘরোয়া লিগের ডার্বিতে মোহন বাগানকে ৩-২ গোলে পরাস্ত করল বিনো ব্রিগেড। ৫ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট ইস্ট বেঙ্গলের। অন্যদিকে ডার্বি হেরে আরও চাপে মোহন বাগান। ৬ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট ডেগি কার্ডোজোর দলের। গতবারও ডার্বিতে মুখ পুড়িয়েছিলেন তিনি। সবুজ-মেরুন কোচের শুধু মুখে মারিতং জগত। সমর্থকদের আবেগের কানাকড়ি দাম নেই গোয়ানিজের কাছে। কার কোটায় টিকে আছেন বোঝা দায়! বাংলায় কি যোগ্য কোচের এতই অভাব? ম্যানেজমেন্টের কাছে ঘরোয়া লিগ গুরত্বহীন। এই মানসিকতা মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়।
ডার্বির আগে বেকায়দায় ছিল বিনোর দল।। শেষ তিন ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি। তবে বড় ম্যাচে শুরুতেই লাল-হলুদ ঝড়। নবম মিনিটেই আসে কাঙ্ক্ষিত লিড। ডান প্রান্তে মোহন বাগানের রোশনকে মাটি ধরিয়ে সায়নের মাপা পাস থেকে গোল জেসিনের (১-০)। তবে ২১ মিনিটেই চোট পেয়ে মাঠ ছড়তে হয় কেরালাইট স্ট্রাইকারকে। যাই হোক, এই পর্বে আলাদা করে প্রশংসা করতে হবে সায়নের। গোল করানোর পাশাপাশি স্কোরশিটেও নামও তুললেন তিনি। সায়নকে সামলাতে হিমশিম প্রতিপক্ষ লেফট উইং ব্যাক রোশন সিং। এরইমধ্যে ৩২ মিনিটে দলকে সমতায় ফেরানোর সুযোগ হারান কিয়ান। একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে সিটার নষ্ট সুহেলের। ফিরতি বলে কিয়ানের শট পোস্টে প্রতিহত হয়। ৪২ মিনিটে তো নিশ্চিত লাল কার্ড ছিল ডিফেন্ডার দীপ্যেন্দু বিশ্বাসের। বক্সে ডেভিডকে বিপজ্জনক ট্যাকল করেও পার পেয়ে গেলেন। প্রথমার্ধের সংযোজিত সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ইস্ট বেঙ্গল। দুরন্ত প্রতি-আক্রমণের ফসল সায়নের গোল। এডমুন্ডের পাস ধরে বিপক্ষ গোলকিপারকে কাটিয়ে জাল কাঁপান বঙ্গসন্তান(২-০)। তার আগে ডেভিডকে পা চালিয়েও রক্ষা পান দীপ্যেন্দু। এক্ষেত্রে লাল কার্ড দেখাতেই পারতেন রেফারি। ডার্বির আগে সিনিয়র দলের ৬ ফুটবলারকে রেজিস্ট্রেশন করায় মশালবাহিনী। ভেজা মাঠে দাঁড়াতেই পারেনি মার্তণ্ড। বরং এডমুন্ড অনেক সচল।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য লড়াইয়ে ফেরে মোহন বাগান। ৫৫ মিনিটে কর্নার থেকে হেডে বল নামান দীপ্যেন্দু। জটলায় জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ লেওয়ানের (২-১)। এর ১২ মিনিট পরেই ২-২। লেওয়ানের ক্রস থেকে কিয়ানের হেড দেবজিৎকে নড়তে না দিয়েই জালে জড়ায়। কিন্তু মোহন বাগান রক্ষণ যে গড়ের মাঠ। দু’মিনিট পর ডেভিডের গোলে ফের এগিয়ে যায় ইস্ট বেঙ্গল (৩-২)। নাসিবের পাস থেকে ক্ষমার অযোগ্য মিস করলেন ডেভিড। না হলে ব্যবধান আরও বাড়ত। পয়েন্ট খোয়ালে এই মিসই টার্নিং পয়েন্ট হতে পারত। বিনোর কোলের ছেলে আমনও লাল কার্ড দেখলেন। প্রতিভা আছে। তবে ঠিক সময়ে বল না ছাড়লে তারকা হওয়া কঠিন।
ইস্ট বেঙ্গল: দেবজিত্, সুমন, মার্তাণ্ড, প্রভাত, বিক্রম, নাসিব (গুইতে), তন্ময়, সায়ন (সঞ্জীব) এডমুন্ড (আমন), ডেভিড, জেসিন (জোথানপুইয়া/রামসাঙ্গা)।
মোহন বাগান: দ্বীপপ্রভাত, লেওয়ান (গোগোচা), বিলাল, দীপ্যেন্দু (আদিত্য), রোশন, সন্দীপ (টংসিন), মিংমা, কিয়ান, সালাউদ্দিন (পাসাং), করণ ও সুহেল।