নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বৃহস্পতিবার ভোরে নিমতায় ঘরের মধ্যেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল বৃদ্ধ দম্পতির। মৃত দম্পতির নাম ননীগোপাল দাস (৯৬) ও তৃপ্তি দাস (৮৭)। নিমতা কালচার মোড়ের কাছে একটি দোতলা বাড়িতে থাকতেন তাঁরা। ননীগোপালবাবু অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ছিলেন। স্ত্রী ছিলেন গৃহবধূ। ভোরের দিকে ওই বাড়িতে আগুন দেখে প্রতিবেশীরাই নিমতা থানা ও দমকলে খবর দেন। দমকল কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি দু’জনের অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করে। পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য দেহ দু’টি সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে। বৃদ্ধ দম্পতির এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ননীগোপালবাবুর ছেলে সুব্রত দাস রেলে চাকরি করতেন। গত বছর তিনি অবসর নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন নাগপুরে থাকেন। মেয়ে অপর্ণা পাল ২০২১ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। আশপাশে অবশ্য আত্মীয়রা রয়েছেন। এদিন ভোর ৫টা নাগাদ স্থানীয়রা দম্পতির দোতলার ঘর থেকে আগুন ও ধোঁয়া বের হতে দেখেন। কাছেই থাকেন তৃপ্তিদেবীর ভাইপো সুরজিৎ রায়চৌধুরী। তিনি দৌড়ে চলে আসেন। দ্রুত খবর যায় দমকল ও নিমতা থানায়। দমকলের একটি ইঞ্জিন প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর দমকলের কর্মীরা ঘরে ঢুকে দেখেন, দম্পতি যে খাটে ঘুমাতেন তা কার্যত ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। বৃদ্ধার দেহটি কুণ্ডলি পাকিয়ে গিয়েছে। ঘরের দরজার পাশে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছেন বৃদ্ধ। ওই ঘরে থাকা এসি, টিভি, শোকেস, ড্রেসিং টেবিল, ডাইনিং টেবিল সহ সমস্ত সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। যা দেখে দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট অথবা এসি মেশিন থেকে কোনোভাবে আগুন লেগে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এদিন বিকালে নিমতার বাড়িতে এসে পৌঁছান ছেলে সুব্রতবাবু সহ আত্মীয়রা।
ভাইপো সুরজিৎ রায়চৌধুরী বলেন, এদিন সকালে খবর পাওয়ামাত্র ছুটে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি যে ঘরে পিসি ও পিসেমশাই ঘুমাতেন, সেই ঘরের জানালা থেকে আগুন ও ধোঁয়া বেরচ্ছে। চেষ্টা করেও আমরা ভিতরে ঢুকতে পারিনি। পরে দমকলের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পিসির হাঁটুর সমস্যা থাকায় ঠিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারতেন না। আমাদের ধারণা, আগুন লাগলে পিসি খাট থেকে নামতে পারেননি। পিসেমশাই হয়ত বেরনোর চেষ্টা করেছিলেন। তাই দরজা পর্যন্ত আসতে পেরেছিলেন। দু’জনের কাউকেই বাঁচানো যায়নি। তবে নিছক দুর্ঘটনা থেকে অগ্নিকাণ্ড, নাকি এর পিছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।