


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভয়াবহ বন্যার জন্য আগেই ডিভিসি (দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন)-কে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা না করে বিপুল পরিমাণ জল ছেড়ে দেওয়া, কখনও আবার জল ছাড়ার পরিমাণ আচমকাই অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে দেওয়া—ডিভিসির বিরুদ্ধে এরকম একাধিক অভিযোগ ইতিপূর্বে করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার শুধু মুখের কথা নয়! রীতিমতো তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে মুখ্যমন্ত্রী দেখিয়ে দিলেন, এই বন্যা আসলে ‘ম্যান মেড বিপর্যয়’! বাংলাকে বিপদে ফেলার জন্য বেশি বেশি করে জল ছাড়ছে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রিত সংস্থা ডিভিসি। সোমবার এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘তথ্যই সব বলে দিচ্ছে। ২০২৪ সালের তুলনায় এ বছর ডিভিসির জল ছাড়ার পরিমাণ ১১ গুণ বেড়েছে। আর ২০২৩ সালের তুলনায় বেড়েছে ৩০ গুণ!’ বাংলাকে ভাতে মারতে এ এক ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ বলেই মনে করছেন তিনি। এই ‘চক্রান্ত’ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আজ, মঙ্গলবার কামারপুকুরে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ঘাটালে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে যাবেন মমতা। তার ঠিক আগের দিন ডিভিসির ভূমিকা নিয়ে তিনি যেভাবে সরব হয়েছেন, তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দক্ষিণবঙ্গে বন্যার জন্য কেন ডিভিসিকে দায়ী করা হচ্ছে? মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা, ‘এটি কোনওভাবেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়। বাংলাকে বিপদে ফেলার জন্য আরও বেশি করে জল ছাড়া হচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গে বন্যা ঘটানোর জন্য এটি একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। কারণ, ২০২৪ সালের জুন ও জুলাই মাসে যেখানে ডিভিসি ৪ হাজার ৫৩৫ লক্ষ কিউবিক মিটার জল ছেড়েছিল, সেখানে ২০২৫ সালে এই সময়কালে ৫০ হাজার ২৮৭ লক্ষ কিউবিক মিটার জল ছাড়া হয়েছে।’ এই ‘বিপুল ও নজিরবিহীন’ হারে জল ছাড়ার ফলে দক্ষিণবঙ্গে যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার খতিয়ানও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, ‘বিভিন্ন জেলা বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছে বন্যায়। বহু জমির ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ভেঙে গিয়েছে প্রচুর বাঁধ, অসংখ্য রাস্তা। হাজার হাজার মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়েছে। তাঁদের জীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে।’
অসহায় বানভাসি মানুষের পাশে থেকে সবরকম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে তৎপর রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বন্যা পরিস্থিতির প্রতি মুহূর্তের খোঁজখবর রাখছেন। একজনও দুর্গত নাগরিক যাতে ত্রাণসামগ্রী থেকে বঞ্চিত না হন, সেই বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সোমবার নবান্নে রাজ্যের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ জানিয়েছেন, যেসব এলাকা প্লাবিত হয়েছে, সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে বিপদাপন্ন মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।