Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দুর্গাপুজো-দক্ষিণেশ্বর থেকে যাদবপুর, ব্রিগেডে মিলে গেল সারা বাংলা

বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিজেপি স্লোগান দিয়েছিল ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’। শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর শপথে ব্রিগেডে গিয়ে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা কার্যত সেই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালালেন।

দুর্গাপুজো-দক্ষিণেশ্বর থেকে যাদবপুর, ব্রিগেডে মিলে গেল সারা বাংলা
  • ১০ মে, ২০২৬ ০৬:২৬
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিজেপি স্লোগান দিয়েছিল ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’। শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর শপথে ব্রিগেডে গিয়ে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা কার্যত সেই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালালেন। 

Advertisement

শনিবার ব্রিগেডে আসা কর্মী-সমর্থকরা ছিলেন অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ। তা সত্ত্বেও হেলমেট ছাড়া বাইক বাহিনীর দাপট দেখা গিয়েছে। তবে দলের সিরিয়াস কর্মীদের কেউ হাতে নিয়ে এলেন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক নিহত চন্দ্রনাথ রথের ছবি। 
এই ব্রিগেডেই প্যাটি বিক্রেতাদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়েছিল বিজেপি। তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এদিন সেরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। ব্রিগেডের মাঠে দেখা গিয়েছে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ভিড়। উল্লেখজনক উপস্থিতি ছিল তরুণ-তরুণী ও মহিলাদের। বিজেপির ব্রিগেডের এই ছবি চমকে দিয়েছে রাজনৈতিক মহলকে। তাদের বক্তব্য, ‘বিরোধী বিজেপির থেকে শাসক বিজেপির চেহারা অনেকটাই আলাদা।’ ভোটের ফলপ্রকাশের রাতে বিরোধীদের পার্টি অফিস ভাঙার মতো আগ্রাসী নয় ব্রিগেডের ভিড়। এ ছবি দেখার পর রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশ্ন, ‘তবে কি নেতৃত্ব সাবধানবাণী দেওয়া শুরু করে দিয়েছে। এবং কর্মীরা শুনতেও শুরু করেছেন?’ 
শনিবার ব্রিগেড চত্বর সাজানো হয়েছিল একাধিক স্টল দিয়ে। সেগুলিতে বাঙালিয়ানার সুস্পষ্ট ছোঁয়া। আর ছিল ২০টি ঝালমুড়ির স্টল। ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন। তারপর থেকেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের কাছে ঝালমুড়ি যেন ‘মাস্ট’ খাবার। ব্রিগেডের আশপাশে থাকা ঝালমুড়ি বিক্রেতাদের বক্তব্য, ‘তাঁদের বিক্রি ভালোই হয়েছে।’ এর সঙ্গে ছিল ছ’টি মিষ্টির স্টল। সেখানে পদ্মফুলের ছাপ দেওয়া নানা ধরনের মিষ্টি বিক্রি হয়েছে। গোটা ব্রিগেডে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের স্থাপত্যগুলির ছবি রাখা হয়েছিল। ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাদবপুর বিশ্বাবিদ্যালয়ের ছবিও। এছাড়া দক্ষিণেশ্বর, দুর্গাপুজো সহ নানা উত্সবের কোলাজও দেখা যায় ব্রিগেডে। বিজেপি নেতারা বলে থাকেন, ৩২১ জন শহিদের বলিদান ব্যর্থ হয়নি। তাঁদের লড়াইয়ের কারণেই তৃণমূল হেরেছে। রাজ্যে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে। এদিন ব্রিগেডের মাঠে রাখা হয়েছিল সেই ৩২১ জনের নাম দেওয়া শহিদ বেদী। এর পাশাপাশি ছিল বাংলার মনীষীদের বিরাট আকারের কাটআউট। কর্মী-সমর্থকদের দেখা গিয়েছে, রাস্তায় দাঁড় করানো নরেন্দ্র মোদির কাটআউট সভা শুরুর আগেই খুলে নিয়ে চলে যাচ্ছেন। কেউ বললেন, ‘পার্টি অফিসে রাখব,’ আবার কেউ বললেন, ‘বাড়িতে রাখব।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ