সংবাদদাতা, আরামবাগ: সংস্কারের অভাবে প্রাণ হারিয়েছে গোঘাটের কোকন্দ গ্রামের দিঘি। সরকার বদলেছে। বদলেছে অনেক কিছুই। তাই নতুন সরকারের কাছে ওই দিঘিটি পুনরায় সংস্কার করে মাছ চাষ এবং দিঘিরপাড়ে সৌন্দর্যায়ন করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে আমরা একাধিকবার তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতে আবেদন নিবেদন করেছিলাম। ব্লক অফিসে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। দুই একবার টেন্ডার ডাকা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। যার ফলে প্রায় ১৫ বছর ধরে অনাবাদী হয়েই পড়ে রয়েছে দিঘিটি। বর্তমানে দিঘিটিতে জলজ গাছ, পানা, শ্যাওলা, পদ্মফুলে ভরে রয়েছে। নষ্ট হয়ে গিয়েছে দিঘির জল। এই বিষয়ে বিজেপির গোঘাট দু নম্বর ব্লকের দু’নম্বর মন্ডলের ট্রেজারার অলোক রায় বলেন, এই দিঘিটি আমাদের এলাকার ঐতিহ্য। এটি অনেক বড় মাপের হওয়ায় এখানে বড় বড় মাছ আগে চাষ হতো। পালা বদলের পর এই দিঘিটিতে হঠাৎ করে চাষ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকে ১৫ বছর অনাবাদি হয়ে পড়েছিল এই দিঘিটি। আমরা এটির সংস্কারের জন্য ব্লক অফিসে জানিয়েছি। সম্প্রতি আমাদের হুগলির ডিএম এই দিঘিটি পরিদর্শন করে গিয়েছেন। আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি আমরাই এটিকে সংস্কার করে টেন্ডারের মাধ্যমে মাছ চাষ করার ব্যবস্থা করে ফেলতে পারব। এখানে মাছ চাষ হলে সরকারের আয় হবে। দিঘির পাড়ে সৌন্দর্যায়ন হলে স্থানীয় মানুষজন কাজও পাবেন। তার পাশাপাশি বাজারে মাছের যোগানও বাড়বে। স্বাভাবিকভাবেই এই এলাকার বাজারগুলিতে মাছের দাম কমবে।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কোকোন্দ গ্রামে প্রায় ৯ একর এলাকা জুড়ে এই দিঘিটি অবস্থিত। এই দিঘিটি মাছ চাষের উপযুক্ত হওয়ায় এই দিঘিটিতে স্থানীয় পঞ্চায়েতের উদ্যোগে বাম আমলে গোঘাট ২ ব্লকের বিএলআরও দপ্তরের অধীনে টেন্ডার ডেকে মাছ চাষ শুরু করা হয়। ৩ বছর করে চুক্তির মাধ্যমে এই দিঘিটির বরাত কোকোন্দ মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড পায়। সেই সময় মাছ ধরার সরঞ্জাম, মাছের খাবার, মাছ রাখার ট্রে ওই সমবায় সমিতির একটি ঘরে রাখা হত। দিঘির জল ছিল কাচের মত স্বচ্ছ। ছাওয়া করার জন্য দিঘির পাড়ে লাগানো হয় আম গাছ। সিমেন্টের একটি ঘাটও বাঁধানো হয়। সেই সময় ওই সমিতির সদস্যরা গোঘাট ১ ব্লকের বিভিন্ন মৎস্যচাষির কাছ থেকে এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের আনন্দপুর গ্রাম থেকে চারা মাছ এনে এই দিঘিতে ছাড়তেন। মাছের খাবার ছড়ানোর জন্য একটি নৌকাও কেনা হয়েছিল। ওই নৌকার মাধ্যমে মাঝ দিঘিতে গিয়ে মাছের খাবার ছড়ানো হত। মাছ ধরার জন্যও এই নৌকা ব্যবহার করা হত। মাছ খুব দ্রুত বেড়ে উঠত এই দিঘিতে। একটি মাছের সর্বাধিক ওজন হয়েছিল প্রায় ২০ কেজি। ফলে টেন্ডার নিয়ে এই দিঘিতে মাছ চাষ করে লাভের মুখ দেখতে পাওয়া যেত। টেন্ডারের মূল্য ভালো ওঠায় সরকারি আয়ও ভালো হত। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের সময় রাজনৈতিক অশান্তির কারনে এই মাছ চাষ বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় থেকে এখনও পর্যন্ত দিঘিতে মাছ চাষ শুরু করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় বর্তমানে দিঘিটির গভীরতা কমে গিয়েছে, পদ্মফুল, শ্যাওলা, পানা সহ জলজ প্রজাতির গাছে দিঘি ভরে গিয়েছে। ওই গাছ পচে গিয়ে দিঘির জলকে দুষিত করে তুলেছে। বাঁধানো ঘাটটিরও কিছু কিছু জায়গা ভেঙে গিয়েছে। শ্যাওলা গজিয়েছে। বন জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। বর্তমানে মাছ চাষের অযোগ্য হয়ে রয়েছে দিঘিটি। দিঘিটিতে মাছ চাষ না হওয়ায় সরকারি আয়ও হচ্ছে না। তাই এলাকার মানুষজন দিঘিটির সংস্কার করে পুনরায় মাছ চাষ করার দাবিতে সরব হয়েছেন।



