প্রথম শ্রেণি থেকেই পাশফেল ফেরানোর  দাবিতে স্কুল শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি ডিএসওর
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুধুমাত্র পঞ্চম বা অষ্টম শ্রেণিতে নয়, একেবারে প্রথম শ্রেণি থেকেই পাশফেল ফিরিয়ে আনা হোক। এই দাবিতে স্কুল শিক্ষামন্ত্রী, সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যান, পর্ষদগুলির সভাপতিদের ইমেলের মাধ্যমে চিঠি পাঠাল ছাত্র সংগঠন ডিএসও। তাদের বক্তব্য, প্রাথমিক শিক্ষাকে দুর্বল করে পঞ্চম শ্রেণি বা উচ্চ প্রাথমিক স্তর থেকে তা ফিরিয়ে এনে খুব একটা লাভ হবে না। এই ব্যবস্থার জন্য বামফ্রন্ট সরকারকেও দায়ী করেছে তারা।

Advertisement

১৯৮২ সালে প্রাথমিক থেকে ইংরেজি এবং পাশফেল তুলে দিয়েছিল রাজ্য সরকার। তখন বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে আন্দোলন করেছিলও ডিএসও। পরবর্তীতে প্রাথমিক স্তরে ইংরেজি ফিরে এলেও পাশফেল ফেরানো হয়নি। ইউপিএ-২ জমানায় ২০০৯ সালে শিক্ষার অধিকার আইন কার্যকর হওয়ার ফলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্তই পাশফেল উঠে যায়। অথচ ইউপিএ-২ আমলেই সেন্ট্রাল অ্যাডভাইজরি বোর্ড অব এডুকেশন গীতা ভুক্কল কমিটিকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দায়িত্ব দেয়। ২০১৪ সালে জমা দেওয়া রিপোর্টে পাশফেল চালুর সুপারিশ ছিল। তা সত্ত্বেও এই ব্যবস্থা ফিরে আসেনি। এমনকি, কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৮ সালে শিক্ষার অধিকার আইনে সংশোধনী এনে পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণিতে তা কার্যকর করার কথা বললেও তা এরাজ্যে তো বটেই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কার্যকর হয়নি। ডিএসও সভাপতি মণিশংকর ভট্টাচার্য, সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় প্রমুখ অবশ্য একেবারে প্রথম শ্রেণি থেকে পাশফেল ফেরানোর দাবিতেই অনড় থেকে চিঠি পাঠিয়েছেন।
পরিস্থিতি বদলানোর একটা ইঙ্গিত অবশ্য মিলছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের সিলেবাস কমিটির তরফে পাশফেল ফেরানোর বিষয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। চেয়ারম্যান দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ও ব্যক্তিগতভাবে পাশফেলের পক্ষে। তবে, সেটা কার্যকর করতে এখনো ঢের পথ হাঁটা বাকি। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ব্যক্তিগতভাবে পাশফেলের পক্ষেই মত দিয়েছেন। তবে, তা কার্যকর করার জন্য সিলেবাস কমিটি এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণের কথাও বলেছেন তিনি। তবে, এ ধরনের প্রস্তাব জোরালোভাবে সিলেবাস এক্সপার্ট কমিটির তরফে এলে তা কার্যকর করতে তেমন বাধা নেই বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০২৮ সাল থেকে স্কুলস্তরে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করার ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। তার সঙ্গে বা তার আগে পাশফেল চালু করা হয় কি না, সেটাই এখন দেখার।