Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডিসেম্বরেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেলেন ৪৬ হাজার নয়া উপভোক্তা

ডিসেম্বরেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেলেন ৪৬ হাজার নয়া উপভোক্তা
  • ৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জেরে চাঙ্গা হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি। কেন্দ্রীয় সরকারের সমীক্ষাই সেই তথ্য সামনে এনেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রকল্পের সুফল মিলছে বলে মানছেন অর্থনীতিবিদরা। পাশাপাশি রাজনীতিবিদরাও ভোটের বাক্সে এই প্রকল্পের প্রভাবের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। সব মিলিয়ে এই প্রকল্পের উপর বাড়তি জোর দিয়েছে মমতার সরকার। পূর্ব ঘোষণা মতো ডিসেম্বর মাস থেকে নতুন করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন উত্তর ২৪ পরগনার প্রায় ৪৬ হাজার উপভোক্তা। 
Advertisement
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন। রাজ্যের বিরোধীরা এর সমালোচনা করলেও দেখা যায়, ভোটের ময়দানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চমক দেখাচ্ছে। ভোটে এমন প্রভাব দেখে একে মডেল করেছে ভিন রাজ্যও। কোথাও ‘লাডলি লক্ষ্মী’, কোথাও এর নাম ‘মাঈয়া সম্মান যোজনা’। গরিব রাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকে বড়লোক রাজ্য মহারাষ্ট্র– সকলের কাছেই মডেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রকল্প। এরপর গত নভেম্বরে এই প্রকল্প নিয়ে বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীতে এই প্রকল্প নিয়ে অনেক আবেদন আসে। তাছাড়া দুয়ারে সরকারের মাধ্যমেও অনেক আবেদন এসেছে। সব মিলিয়ে আগামী ডিসেম্বর মাসে ৫ লক্ষ ৭ হাজার মহিলাকে নতুন করে এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে। ডিসেম্বর মাস থেকেই তাঁরা টাকা পাবেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা মতো প্রতিটি জেলা নতুন উপভোক্তাদের এই প্রকল্পের আওতায় আনার কাজ শুরু করে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ৪৫ হাজার ৬৪৪ জন উপভোক্তার আবেদন জমা হয়ে পড়েছিল। ডিসেম্বর থেকে সেই টাকা পেতে শুরু করছেন তাঁরা। দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, এর মধ্যে প্রায় ২১ হাজার আবেদনকারী এসসি ও এসটি। বেশি আবেদন রয়েছে বসিরহাট ও বনগাঁ মহকুমাতে।
একজন আবেদনকারী আমডাঙার বেড়াবেড়িয়ার বাসিন্দা পরমা ভুঁইয়া। তাঁর স্বামী পেশায় রাজমিস্ত্রি। ছেলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে। দু’বার তিনি আবেদন করেছিলেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য। কিন্তু বাতিল হয় আবেদন। অবশেষে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীতে ফোন করে এনিয়ে অভিযোগ জানান। দপ্তর থেকে তাঁর কাছে তথ্য নেওয়া হয়। অবশেষে নভেম্বরের শেষ মাসে তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা হয়েছেন বলে জানতে পারেন। ডিসেম্বর থেকে তিনি পাচ্ছেন ১০০০ টাকা। এছাড়া যেমন ছোট জাগুলিয়ার ললিতা বিশ্বাস। তিনি শেষ বার দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে আবেদন করেন। ডিসেম্বর থেকে তিনিও টাকা পেতে শুরু করলেন। তিনি জানিয়েছেন, সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া মেয়ের পড়াশোনার জন্য এই টাকা খরচ হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ