Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

দেশের সংবিধান ও এক বাঙালি

দেশের সংবিধান ও এক বাঙালি
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবিধান। দেশের সর্বোচ্চ আইন। ভারতের সংবিধান বললে প্রথমেই মনে আসে ডঃ বি আর আম্বেদকরের নাম। বিশ্বের বৃহত্তম লিখিত সংবিধানের প্রাণপুরুষ। তবে এই আলোচনার আড়ালে থেকে যায় এক বাঙালির নাম। মানবেন্দ্রনাথ রায়। বহু আগেই যিনি দেশের জন্য সংবিধান তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। তৈরি করেছিলেন খসড়াও। যা ব্রিটিশ আমলে ভারতীয় সমাজে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। পাশাপাশি, এক নতুন পথ দেখিয়েছিল স্বাধীনতা আন্দোলনকে।
Advertisement
মেক্সিকোতে কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠায় এম এন রায়ের ভূমিকার কথা অনেকেরই জানা। কিন্তু আলোচনা হয় না স্বাধীন ভারতের জন্য তাঁর সংবিধান রচনার উদ্যোগ নিয়ে। ১৯৪৪ সালে এই বিপ্লবী নেতা তৈরি করেছিলেন একটি খসড়া দলিল। যা গৃহীত হয়েছিল র‌্যাডিক্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে। আরও ব্যাপক আলোচনার জন্য পরে সেটি আম জনতার দরবারে পেশ করা হয়। এই খসড়ার মাধ্যমে ইংরেজদের হাত থেকে ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলির নাক গলানোর পথ বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন এম এন রায়। সেইসঙ্গে রাশ টানতে চেয়েছিলেন ভারতের স্বাধীনতা ঘোষণার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সরকারের গড়িমসিতেও। এম এন রায়ের প্রস্তাবিত খসড়া সংবিধানে ১৩টি অধ্যায় ছিল। যার মধ্যে সাতটিতে বিশদ আলোচনা করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার নিয়ে। স্বাধীন দেশে সরকারের কাঠামো কেমন হবে, আইন ও বিচার বিভাগের হাতে কী কী ক্ষমতা—সমস্ত বিষয় সম্পর্কে চর্চা করা হয়েছিল এই সাত অধ্যায়ে। অন্য অধ্যায়গুলিতে জায়গা পেয়েছিল ‘অধিকার ও মৌলিক নীতি’, প্রদেশ, সমাজের আর্থিক সংগঠন, বিচার বিভাগ ও স্থানীয় স্বায়ত্ত্ব শাসনের মতো গুতরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি।
ক্ষমতার আমূল বিকেন্দ্রীকরণ ও প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের কথা বলেছিলেন এম এন রায়। তাঁর খসড়া সংবিধানে ছিল দেশজুড়ে ‘জনগণের কমিটি’ গঠনের কথা। নাগরিকদের ভোটে জেলা বা শহর স্তরে নির্বাচিত এই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে কেন্দ্রীয়, প্রাদেশিক ও স্থানীয় সরকারের। ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের অবৈতনিক বাধ্যতামূলক ও ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছিল এই সংবিধানের খসড়ায়।
সম্পর্কিত সংবাদ