Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দেশজুড়ে ৩ মাসে ৮ হাজার সদস্য  সংগ্রহ আনসারুল্লা বাংলা টিমের!   তদন্তের পর উদ্বিগ্ন অসম এসটিএফ

দেশজুড়ে ৩ মাসে ৮ হাজার সদস্য  সংগ্রহ আনসারুল্লা বাংলা টিমের!   তদন্তের পর উদ্বিগ্ন অসম এসটিএফ
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গোটা দেশে আনসারুল্লা বাংলা টিমের (এবিটি) হয়ে কাজ করছে তাদের আট হাজারের বেশি সদস্য। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল ও অসমে সদস্য সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মাত্র তিনমাসেই বিপুল সংখ্যক লোককে জেহাদি ভাবধারায় অনুপ্রাণিত করে এবিটিতে ভিড়িয়েছিল মহম্মদ শাদ রবি ওরফে সাহেব। অসম এসটিএফের হাতে ধৃত শাদের কাছে এই তথ্য জানার পর তদন্তকারীরা বুঝতে পারছেন, এবিটির নেটওয়ার্ক কতদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে গিয়েছে। একইসঙ্গে দেশে কতটা মজবুত ভিত তৈরি করেছে তারা। এটা ভাঙাই এখন গোয়েন্দাদের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি জেলে জঙ্গি নেটওয়ার্ক তৈরিতে সহায়তাকারী কারাকর্মীদের একাংশ এখন অসম এসটিফের স্ক্যানারে।
Advertisement
অসম পুলিস শাদকে জেরা করে জেনেছে, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল সমস্ত রাজ্যে সংগঠন তৈরি করা, যাতে কোনও একটি রাজ্যে তাদের নেটওয়ার্ক পুলিস ভেঙে দিলেও যেন জঙ্গি সংগঠন গুটিয়ে না-যায়। তার ভিত্তিতে গোটা ভারতকে তিনটি জোনে ভাগ করেছিল ওরা। প্রতিটি জোনের জন্য তাদের ‘আমির’ ঠিক করা হয়ে গিয়েছিল। বাংলা-অসমের সমন্বয়কারী শাদ পুলিসি জেরায় জানিয়েছে, ওই কারণে সে ও নুর বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরছিল। নতুন সদস্যদের জন্য আয়োজন করা দাওয়াতে তারা জেহাদি প্রচার চালাত। এবিটির সদস্য সংখ্যা বাড়ছিল বিদ্যুৎগতিতে। শাদের টার্গেট ছিল আগামী ছ’মাসের মধ্যেই এবিটির সদস্য সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়ে দেওয়া, যাতে প্রতিটি ব্লকে এই জঙ্গি সংগঠনের অন্তত কিছু সদস্য থাকে। শাদের নির্দেশ ছিল, সমস্ত জেহাদিকে গ্রামে বা মহল্লায় মিশতে হবে। সংগঠনের ভাবধারা ও আদর্শ তুলে ধরাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য। তদন্তে প্রকাশ, সদস্যদের প্রতি শাদের নির্দেশ, সংগঠনের জন্য প্রত্যেক সদস্যকে বছরে ৫০০০ টাকা দিতে হবে। এই তহবিল একজায়গায় করেই খারিজি মাদ্রাসা তৈরির জন্য জমি ও অস্ত্র কিনবে তারা। বাংলাদেশ থেকে সংগঠনের জন্য আমদানি করা টাকা একে সিরিজের রাইফেল ক্রয় এবং আইইডি তৈরির জন্য তারা ব্যবহার করবে।
হেফাজতে বন্দি জঙ্গিদের জেরা করে তদন্তকারীরা আরও জেনেছেন, এবিটি প্রধান জসিমউদ্দিন রহমানির নির্দেশ ছিল, ভিতরে থেকেও জেহাদি কাজ অব্যাহত রাখতে কারারক্ষীদের একাংশকে ‘ম্যানেজ’ করতে হবে। শাদ সেইমতোই মিনারুল ও আব্বাসকে দায়িত্ব দেয় কারাকর্মীদের একাংশের সঙ্গে সম্বন্বয় করতে। সংশোধনাগারে নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীকের একাংশের মাধ্যমেই মোবাইল পৌঁছে যাচ্ছিল সাজিদ বা লাল মহম্মদের কাছে। এমনকী, সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গিদের সেলে না রেখে ছেড়ে রাখা হতো বলে জেনেছে অসম এসটিএফ। ওই কারণে তাদের নিজেদের মধ্যে বৈঠকে সুবিধা হয়। জেএমবির জঙ্গিদের এক জেল থেকে অন্য জেলে সরানোর ক্ষেত্রেও বাইরে থেকে প্রভাব খাটাচ্ছিল মিনারুল ও আব্বাস। কোন কোন কারাকর্মী তাদের ‘দোস্ত’ হয়ে উঠেছে জেরায় তা ফাঁস করেছে মিনারুল। বিষয়টি রাজ্যের পুলিসকে তাঁরা জানাবেন। একইসঙ্গে আধা সামরিক বাহিনীতে চর ঢুকিয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর জোগাড় করারও নির্দেশ দেয় শাদ। বিএসএফের একাংশকেও ‘ম্যানেজ’ করা তাদের লক্ষ্য, যাতে জঙ্গিদের যাতায়াত অবাধ হতে পারে এবং চোরাপথে কার্তুজ কেনাও  সম্ভব হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ