নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘ত্রিকালদর্শী! সুদিন ফেরাতে দক্ষ!’— বিজ্ঞাপন দেখে সাধুবাবার কাছে গিয়েছিল বেহালার এক পরিবার। সুদিন ফেরাতে গিয়ে সেই সাধুর খপ্পড়ে পড়ে সর্বস্ব খোয়ালো ওই পরিবার। পুজোর প্রসাদ খাইয়ে পরিবারের সবাইকে বেহুঁশ করে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার সোনা-হীরের অলংকার হাতিয়ে চম্পট দিল সাধু ও তার দুই সঙ্গী। এই ঘটনায় বেহালা থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন গৃহবধূ। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। তিন অভিযুক্তের নাম সোমনাথ গোস্বামী, টুম্পা গোস্বামী ও প্রভাত কর। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, তারা সবাই মুর্শিদাবাদের মন্দিরবাজারের বাসিন্দা। লালবাজার জানিয়েছে, অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।
অভিযোগকারিণীর নাম মামনি দত্ত। তাঁর ২৭ বছর বয়স। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে সোমনাথ গোস্বামী সহ তিনজনের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। পরিবারে সুখ-শান্তি ও সুদিন ফেরানোর জন্য সাধুদের দ্বারস্থ হন তিনি। প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন পাথরের আংটি ধারণের উপদেশ দেয় ‘ভণ্ড’ সাধুর দল। সেইসব আংটির ব্যবস্থা তারাই করে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পরিবারের সকলের জন্য আংটি বানানো হয়। এই বাবদ প্রায় তিন লক্ষ টাকা নেয় সোমনাথ। তাতেও সুদিন না ফেরায় ফের ওই সাধুদের দ্বারস্থ হন মামনি। তখন বলা হয়, বাড়িতে পুজো ও যজ্ঞ করতে হবে। তাহলেই সুখ ফিরবে।
সেই মতো সম্প্রতি পুজো ও যজ্ঞের আয়োজন করা হয় বেহালার বাড়িতে। অভিযোগপত্রে মামনি জানিয়েছেন, বেহালা থানা এলাকার মুচিপাড়ার পুবালি এনক্লেভ রোডের একটি আবাসনে থাকেন তাঁরা। সেখানেই যজ্ঞের আয়োজন করা হয়। নির্দিষ্ট দিনে পুজো ও যজ্ঞ শেষে সিন্নি প্রসাদ তৈরি হয়। ‘সাধু’দের নিদান— ‘বাড়ির সবাইকে একসঙ্গে প্রসাদ খেতে হবে।’ সেই প্রসাদ খাওয়ার পর সকলেই বেহুঁশ হয়ে যান বলে অভিযোগ। মামনি বলেন, সংজ্ঞা ফেরার পর দেখি, গোটা ঘর লণ্ডভণ্ড। আলমারি খোলা। লকারও ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। সেখান থেকে গায়েব বিয়ের যাবতীয় গয়না। সীতাহার, কানের দুল, একজোড়া সোনার চেন, বালা, ব্রেসলেট, হীরের আংটি, লকেট— সবকিছুই খোয়া গিয়েছে। গৃহবধূর অভিযোগ, মূল অভিযুক্ত সোমনাথের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত জানায়, আমরা সেসব নিয়ে এসেছি। মন্ত্রঃপূত করার পর ওই সোনার গয়না ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু, বিষয়টি কাউকে জানানো যাবে না। জানালে মামনি ও তাঁর পরিবারের বড়ো ক্ষতি হতে পারে বলে হুমকি দেয় সে। সোনার গয়না খোয়া যাওয়ার পর বেহালা থানার দ্বারস্থ হন অভিযোগকারিণী।