Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দু’বছরে ধান-চাল কেনার ১৪ হাজার কোটি কেন্দ্রীয় ভর্তুকি বকেয়া, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

দু’বছরে ধান-চাল কেনার ১৪ হাজার কোটি কেন্দ্রীয় ভর্তুকি বকেয়া, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চাষিদের কাছ থেকে ধান-চাল কেনার জন্য ভর্তুকি খাতে দুটি আর্থিক বছরে রাজ্যের প্রাপ্য ১৪ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সরকার দেয়নি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার বিধানসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে এই কথা জানান। কেন্দ্রীয় সরকার রেশন গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন মাপকাঠি ঠিক করে রেখেছে। তাই ৪০ শতাংশ রেশন গ্রাহককে খাদ্য দেওয়ার পুরো খরচ রাজ্য সরকারকেই করতে হয়। খাদ্যসাথী প্রকল্প চালু করা হয়েছে।  এদিকে এদিন বিধানসভা ভবনে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে চলতি ২০২৪-২৪ খরিফ মরশুমে চাষিদের কাছ থেকে ৬৮ লক্ষ টন ধান কেনার জন্য ১৮ হাজার ২৬১ কোটি টাকা বরাদ্দের অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে অগ্রিম বাবদ দেওয়া হয়েছে ১৫ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। 
Advertisement
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বিধানসভায় আলুর প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, আলু উৎপাদনে দেশে দ্বিতীয় পশ্চিমবঙ্গ। কিন্তু প্রচুর পরিমাণে আলু ভিন রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু লোকের মুনাফা করার জন্য এরাজ্য ভুগবে এটা হতে পারে না। আগে রাজ্যের মানুষ খাবে। তারপর থাকলে বাইরের রাজ্যে যাবে বলে সাফ জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে পেঁয়াজের উৎপাদন ৭৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু তা থেকে ভিন রাজ্যেও পাঠানো হচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরে আন্তঃরাজ্য সীমানা দিয়ে বাইরের রাজ্যে আলু পাঠানো বন্ধ করেছে রাজ্য প্রশাসন। এর বিরুদ্ধে আলু ব্যবসায়ীদের সংগঠন আজ মঙ্গলবার থেকে হিমঘরে সংরক্ষিত আলু কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে। এদিন কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্নার সঙ্গে প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের বৈঠকেও কোনও নিষ্পত্তি হয়নি। কিছু আলু যাতে বাইরেও পাঠানো যায় ব্যবসায়ীরা তার অনুমতি চাইছেন। কিন্তু রাজ্য সরকার তাতে রাজি হয়নি। আজ, মঙ্গলবার বৈঠকে বসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। এখনও আলু পাঠানোর কাজ  বন্ধ রাখার কর্মসূচি বহাল আছে বলে সংগঠনের কর্তা লালু মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন।অন্যদিকে কৃষি বিপণন মন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছেন, আলু পাঠানো বন্ধ করলে সরকার আরও কড়া ব্যবস্থা নেবে। রাজ্যের হিমঘরে এখনও ৬.২ লক্ষ টন আলু মজুত আছে। ঘূর্ণিঝড় দানার জন্য এবার রাজ্যে আলুর চাষ দেরিতে শুরু হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে নতুন আলু আসতে জানুয়ারি মাস হয়ে যাবে। তাই এখন আলু বাইরের রাজ্যে পাঠানো হলে এখানে ঘাটতি দেখা দেবে। মন্ত্রীর কথায়, এখন হিমঘরে মূলত ব্যবসায়ী ও হিমঘর মালিকদের আলু আছে। এবার আলু বেচে তাঁরা ৫০ কেজির বস্তায় ৩০০ টাকা বেশি লাভ ইতিমধ্যেই করেছেন। আরও লাভ করতে চাইছেন তাঁরা। কেন্দ্রীয় সরকার উত্তরবঙ্গের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আলু পাঠানোয় সমস্যা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মন্ত্রী।
এদিকে বিধানসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ জানান, রাজ্যে ১ কোটি ২ লক্ষ রেশন কার্ড নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। মৃত্যুজনিত কারণে প্রত্যর্পণ হয়েছে প্রায় ৬৩ লক্ষ কার্ড। নিষ্ক্রিয় কার্ডের ধারক ই-কেওয়াইসি করালে ওই কার্ড ফের চালু হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ