Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

দার্জিলিংয়ে ব্রিটিশ চার্চ

দার্জিলিংয়ে ব্রিটিশ চার্চ
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সালটা ১৮৪৩। সেই সময় মূলত স্কটিশ সৈন্যরা এবং চা বাগান মালিকদের একটা বড় অংশ বসবাস করতেন দার্জিলিং শহরে। তাঁদের উপাসনার জন্য ১৮৪৩ সালের ৩০ নভেম্বর একটি চার্চের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে ব্রিটিশরা। এক বছরের মধ্যে, ১৮৪৪ সালে অ্যাংলিকান চার্চটির নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যায়। স্কটল্যান্ডের পৃষ্ঠপোষক সেন্ট অ্যান্ড্রুর নামে এর নামকরণ করা হয় ‘সেন্ট অ্যান্ড্রুজ চার্চ’। আজও ব্রিটিশ স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন হয়ে রয়েছে চার্চটি। বর্তমানে অবশ্য তা দার্জিলিংয়ের প্রাচীন চার্চ বলেও পরিচিত। ১৮১ বছরের পুরনো এই চার্চটি ইতিহাসের অনেক অধ্যায়ের সাক্ষী। ১৮৬৭ সালে ভূমিকম্পে চার্চের মূল কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যদিও ১৮৭৩ সালের মধ্যে এটির পুনর্নির্মাণ করেন ব্রিটিশরা। চার্চের ক্লক টাওয়ারটি বানানো হয়েছিল ১৮৮৩ সালে।
Advertisement
দার্জিলিং শহরের ম্যাল রোডে এই চার্চটির কাছেই গোর্খা রঙ্গমঞ্চ। পাহাড়ের কোলে অ্যান্ড্রুজ চার্চের বাইরেটা সারি সারি পাথর সাজিয়ে গাঁথা। তবে রঙের প্রলেপে তা ঢাকা পড়েছে। কাচের সুদৃশ্য জানলা আর অভ্যন্তরীণ অংশে কাঠের কাজ। চারিদিকে সবুজের সমারোহ। বেশ কিছু সিঁড়ি ভেঙে চার্চে প্রবেশ করতে হয়। ব্রিটিশ এই স্থাপত্যশৈলী পর্যটকদের ভীষণ প্রিয়। গ্রীষ্মকালীন অর্থাৎ মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি রবিবার সকাল ন’টা এবং শীতকালীন অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতি রবিবার সকাল সাড়ে ন’টায় উপাসনা হয়। একসঙ্গে শতাধিক লোক প্রার্থনায় অংশ নিতে পারেন। সেন্ট অ্যান্ড্রুজ চার্চ শুধু দার্জিলিং নয়, সমগ্র উত্তরবঙ্গের অন্যতম ঐতিহাসিক ল্যান্ডমার্ক। চার্চের ভিতরে মার্বেল এবং পিতলের ফলকে দার্জিলিংয়ে বসবাসকারী পুরনো বাসিন্দাদের নাম স্মরণীয় করে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তি হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল লয়েড। যিনি দার্জিলিংয়ের আবিষ্কারক হিসাবে পরিচিত ছিলেন। শার্লট ক্যানিংয়ের স্মরণে একটি ছোট পিতলের ফলকও আছে। ১৮৬১ সালে দার্জিলিং এসেছিলেন ভারতের প্রথম ভাইসরয় লর্ড ক্যানিং। ইতিহাস বলছে, লয়েড ১৮২৮ সালে সিকিমের প্রধানের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করার জন্য দার্জিলিং এসেছিলেন। সেই সময় থেকে তিনি দার্জিলিংয়েই ছিলেন। ১৮৬৫ সালে এই শহরেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
সম্পর্কিত সংবাদ