নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: দামোদর নদ থেকে যথেচ্ছ বালি উত্তোলনের ফলে সংকটে পড়েছে পানীয় জলের প্রকল্প। তার ফলে শালতোড়াবাসী পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানাতে গিয়ে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ালেন শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরি। বিধায়কের সঙ্গে আধিকারিকদের তর্ক-বিতর্কের ভিডিও ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে খোদ শাসকদলের বিধায়কের বিতণ্ডা নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
চন্দনাদেবী বলেন, শালতোড়া ব্লকের কামারবাঁধ গ্রামে সাত বছর ধরে পানীয় জলের পাইপ ও ট্যাপকল বসানো হয়েছে। অথচ সেখানে এখনো পর্যন্ত এক বিন্দু জল পৌঁছয়নি। আশপাশের পাবরা, তিলুড়ি সহ অন্যান্য এলাকার পরিস্থিতিও একইরকম। দামোদর নদের কুখরাকুড়ি সহ শালতোড়া ও মেজিয়া ব্লকের অন্যান্য যথেচ্ছ বালি তোলা হয়েছে। তারফলে নদীর গতিপথ বদলে গিয়েছে। পানীয় জলের প্রকল্প এলাকার পাশ থেকেও গভীর খাদ থেকে বালি তোলা হয়েছে। সেই কারণে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি আমি পিএইচই-র আধিকারিকদের বলেছি। অবিলম্বে পানীয় জলের পরিষেবা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
পিএইচই-র সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার ঋতম ভট্টাচার্য বলেন, শালতোড়ার বিধায়ক পানীয় জলের সমস্যার কথা আমাদের জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনের ওই সমস্যার দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। অতীতে প্রকল্প এলাকার ৫০০মিটারের মধ্যে বালি উত্তোলন করা হয়েছিল। কিন্তু, বালি তোলার বিষয়টি আমাদের এক্তিয়ারে পড়ে না। সমগ্র বিষয় নিয়ে সম্প্রতি জেলাস্তরের একটি বৈঠকে প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দামোদর নদের ইনফিলট্রেশন গ্যালারি থেকে পিএইচই জল উত্তোলন করে। উত্তোলনের জন্য স্বাভাবিক নদের জলস্তর একটি নির্দিষ্ট জায়গায় থাকা প্রয়োজন। কিন্তু গত কয়েকবছরে পশ্চিম বর্ধমান লাগোয়া এলাকায় দামোদর নদ থেকে যথেচ্ছ বালি উত্তোলন করা হয়েছে। নিয়ম না মেনে বালি মাফিয়ারা কার্যত নদ ফাঁকা করে দিয়েছে। তারফলে নদীর গতিপথ বদলে গিয়েছে। মেজিয়া, শালতোড়ার বদলে নদীর জল রানিগঞ্জ সংলগ্ন নদের কিনারা বেয়ে বয়ে চলেছে। তারফলে বাঁকুড়ার দিকে নদের অংশ শুকিয়ে গিয়েছে। সেই কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় এক তৃতীয়াংশ জল পিএইচ-র ইনফিলট্রেশন গ্যালারিতে জমা হচ্ছে। তারফলে পানীয় জল সরবরাহ তিন ভাগের এক ভাগে গিয়ে ঠেকেছে।
পিএইচই-র এক আধিকারিক বলেন, নদের তলদেশ শুকিয়ে গেলে ইনফিলট্রেশন গ্যালারির স্ট্রেনারে ময়লা জমে। একবার তা পরিষ্কার করতে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা খরচ হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পুরোদমে বর্ষা নামার আগে ওই শালতোড়ার জল প্রকল্পের স্ট্রেনার পরিষ্কার করার ব্যাপারে আমরা আলোচনা করছি। -নিজস্ব চিত্র