Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দুর্ঘটনার পর ফেরেনি হুঁশ, রেলগেট নামানো থাকলেও দেদার পারাপার

দুর্ঘটনার পর ফেরেনি হুঁশ, রেলগেট নামানো থাকলেও দেদার পারাপার
  • ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পদ্মপুকুর স্টেশন পার করে শালিমারের দিকে ধীর গতিতে এগিয়ে আসছে ট্রেন। নামানো রয়েছে রেলগেট। কিন্তু তাতে কী, রেল ইঞ্জিনকেও থোড়াই কেয়ার করেন পথচারীরা! প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই নিত্যদিন ক্যারি রোডের পদ্মপুকুর রেল ক্রসিংয়ে চলে বাইক-সাইকেল নিয়ে পারাপার। সম্প্রতি এখানেই ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে এক তরুণীর। কিন্তু লাইন পারাপারকারীদের তাতেও হুঁশ ফিরছে না বলে মত ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের একাংশের। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
Advertisement
কোনা এক্সপ্রেসওয়ে ও আন্দুল রোডকে যুক্ত করেছে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যারি রোড। অত্যন্ত সংকীর্ণ ও ঘিঞ্জি এই রাস্তাতেই দিনভর আন্দুল রোড থেকে জাতীয় সড়কে যাওয়ার জন্য ছোট ও মাঝারি পণ্যবাহী লরির ভিড় লেগে থাকে। পাশাপাশি অসংখ্য টোটো, অটো ও বাইকের কারণে গোটা রাস্তাতেই দিনের ব্যস্ত সময়ে যানজট তীব্র আকার নেয়। জাতীয় সড়ক থেকে নেমে ক্যারি রোড ধরে আন্দুল রোডের দিকে খানিকটা এগতেই পড়ে পদ্মপুকুর রেল ক্রসিং। আর এই রেল ক্রসিংই হয়ে উঠেছে যানজটের সব থেকে বড় কারণ। জানা গিয়েছে, শালিমার থেকে রোজ প্রচুর এক্সপ্রেস ট্রেনের পাশাপাশি মালগাড়িও চলাচল করে এই রেল ক্রসিং দিয়ে। তাই কিছুক্ষণ অন্তরই একবার করে রেলগেট নামানো থাকে। পাশাপাশি অত্যন্ত ধীরগতিতে এই ক্রসিং দিয়ে ট্রেন চলাচল করার কারণে রেলগেটে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় গাড়িগুলিকে। 
দেখা গিয়েছে, দুপাশের রেলগেট নামানো থাকলেও তার পাশ দিয়েই সাইকেল ও বাইক চালিয়ে রেললাইন পারাপার করার বন্দোবস্ত করে ফেলেছেন অনেকেই। রেলগেট দু’টির পাশের ফাঁকা অংশে একটি অস্থায়ী রাস্তা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে খানিকটা কায়দা করে বাইক ঘুরিয়ে নিলেই আর অপেক্ষা করতে হয় না। চারচাকা গাড়ির সেই উপায় না থাকলেও দুই চাকার আরোহীদের কাছে পদ্মপুকুর রেলগেট পারাপার করা বাঁ হাতের খেলা। পাশাপাশি পায়ে হেঁটে চলাচল তো রয়েইছে।
বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ্ন রেলগেটের কর্মীরা। গেটম্যানদের কথায়, মাঝেমধ্যে ট্রেন এত কাছাকাছি চলে আসে যে, রেললাইনের মাঝখান থেকে লোক সরাতে আমাদের ছুটে যেতে হয়। চিৎকার করে সতর্ক করলেও কোনও লাভ হয় না। আমরা নিরুপায়। প্রসঙ্গত, শনিবার সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ হেডফোনে কথা বলতে বলতে পদ্মপুকুর রেলগেট পার করতে গিয়ে পুরী-শালিমার এক্সপ্রেসের ধাক্কায় মৃত্যু হয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী অঙ্কিতা পাত্রের। 
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশ বলেন, পুলিসকে সবার আগে আন্দুল রোড থেকে জাতীয় সড়কে শর্টকাটে যাওয়ার জন্য এই রাস্তায় আসা পণ্যবাহী গাড়িগুলিকে আটকাতে হবে। বিষয়টি নিয়ে হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ব্যস্ত সময়ে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ যাতে ক্যারি রোডে না পড়ে, সেদিকে ট্রাফিকের তরফে লক্ষ্য রাখা হয়। কিন্তু রেললাইন পারাপারের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকেও সতর্ক হওয়া উচিত।
সম্পর্কিত সংবাদ