Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সাড়ে চারশো বছরের ইতিহাসে মোড়া বালির রথযাত্রা, পুরী যাওয়ার পথে স্বপ্নাদেশ, ব্রিটিশ আমলে ফিটন গাড়িতে চড়ে পরিক্রমা জগন্নাথদেবের

বালির রথযাত্রা ইতিহাসে ৪০০ বছরের ঐতিহ্য ও স্বপ্নাদেশের কাহিনী। হাজার ভক্তের সমাগমে রথযাত্রা আজও অটুট। বিস্তারিত পড়ুন।

সাড়ে চারশো বছরের ইতিহাসে মোড়া বালির রথযাত্রা, পুরী যাওয়ার পথে স্বপ্নাদেশ, ব্রিটিশ আমলে  ফিটন গাড়িতে চড়ে পরিক্রমা জগন্নাথদেবের
  • ১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সময়ের স্রোতে বদলেছে জনপদ, বদলেছে পথঘাট, হারিয়ে গিয়েছে বহু প্রাচীন রীতি। তবু আজও বালির গোস্বামীপাড়ার পাঠক বাড়িতে একই নিষ্ঠায় জ্বলছে সাড়ে চারশো বছরের ঐতিহ্যের প্রদীপ। কথিত আছে, পুরী যাওয়ার পথে এক পূর্বপুরুষ স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। গঙ্গায় ভেসে আসা নিমকাঠ থেকে তৈরি জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ, ব্রিটিশ আমলে ফিটন গাড়িতে রথযাত্রা— সব মিলিয়ে ইতিহাস, লোকবিশ্বাস ও পারিবারিক ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বালির জগন্নাথতলার এই প্রাচীন মন্দির।

Advertisement

হাওড়ার অন্যতম প্রাচীন দেউল হিসাবে পরিচিত সম্পূর্ণ খিলানের উপর নির্মিত পাঠক পরিবারের জগন্নাথ মন্দিরের ইতিহাস ঘিরে রয়েছে একাধিক জনশ্রুতি। পাঠক পরিবারের ইতিহাস বলছে, বর্ধমান রাজার কাছ থেকে পাট্টা পেয়ে বালিতে বসতি গড়েছিলেন তাঁদের পূর্বপুরুষরা। তাঁদেরই একজন পদব্রজে পুরীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু পথের মাঝে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লে স্বপ্নে স্বয়ং জগন্নাথ নাকি নির্দেশ দেন, নিজের বাড়িতেই বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করতে। সেই স্বপ্নাদেশ মেনেই বালির পাঠকঘাটে গঙ্গায় ভেসে আসা তিনটি নিমকাঠ দিয়ে তৈরি হয় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ। চন্দননগরের কারিগরদের হাতে নির্মিত প্রায় পাঁচ ফুট উচ্চতার সেই বিগ্রহ আজও একই কাঠামোয় পূজিত হয়।
এই মন্দিরকে ঘিরে রহস্য কম নয়। প্রায় ১৫ বছর আগে সংস্কারের সময় মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হয় ঘড়া ঘড়া শামুক ও ঝিনুক। পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের সদস্য সুরশ্রী পাঠকের মতে, প্রাচীন কোনো শুভ রীতি বা মন্দির রক্ষার উদ্দেশ্যেই সেগুলি রাখা হয়েছিল। আবার প্রবীণ সদস্য সমীর পাঠকের দাবি, তাঁদের এক পূর্বপুরুষ তান্ত্রিক ছিলেন এবং এখানেই শবসাধনা করতেন। সেই ইতিহাসের সঙ্গেও এই রহস্যের যোগ থাকতে পারে।
জানা গেল, পাঠক বাড়িতে জগন্নাথের অধিষ্ঠান হলেও রথযাত্রা হতো না এখানে। ব্রিটিশ জমানায় জগন্নাথদেব ফিটন গাড়িতে চেপে উত্তরপাড়া ঘাট হয়ে গঙ্গা পেরিয়ে বেলঘরিয়ার ঘোষাল বাড়িতে রথযাত্রায় যেতেন। বালি ব্রিজ তৈরির পর সেতুর উপর দিয়েই চলত সেই যাত্রা। সত্তরের দশকে নকশাল আন্দোলনের অস্থির পরিস্থিতিতে সেই প্রথার অবসান হয়। তবে স্নানযাত্রা ও রথযাত্রার ঐতিহ্য আজও অটুট। রথের দিন হাজারের বেশি ভক্তের সমাগম হয় মন্দিরে। খিচুড়ি, আলুর দম ও মিষ্টান্নের ভোগ বিতরণ করা হয়। লোকমুখে এমনও প্রচলিত, বরানগরের ‘রথতলা’ নামের উৎসও নাকি এই ঐতিহাসিক রথযাত্রার স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। সোমবারও জগন্নাথদেবের স্নান যাত্রার শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যের সাক্ষী থাকতে ভক্তদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে জগন্নাথতলা। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ