Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

বাজেট আলোচনা শুরু হওয়া নিয়ে সংশয়, স্পিকারের হুঁশিয়ারির পরও প্রতিবাদে অনড় বিরোধীরা

‘জো উচিত সমঝো ওহি করো।’ অর্থাৎ যা উচিত মনে হবে করো। এই স্লোগানেই সমবেত প্রতিবাদে শুক্রবার মোদি সরকারকে কোণঠাসা করল বিরোধীরা।

বাজেট আলোচনা শুরু হওয়া নিয়ে সংশয়, স্পিকারের হুঁশিয়ারির পরও প্রতিবাদে অনড় বিরোধীরা
  • ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: ‘জো উচিত সমঝো ওহি করো।’ অর্থাৎ যা উচিত মনে হবে করো। এই স্লোগানেই সমবেত প্রতিবাদে শুক্রবার মোদি সরকারকে কোণঠাসা করল বিরোধীরা। উত্তাল হল লোকসভা। দু’দিন ধরে চেষ্টা চালালেও বিরোধীদের বাগে আনতে পারল না সরকার। এমনকি স্পিকার ওম বিড়লাও। বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে ১৯ ঘণ্টা ১৩ মিনিট সময় নষ্ট হয়েছে জানিয়ে  স্পিকারের সতর্কবার্তা, এভাবে পরিকল্পিতভাবে সভা ভণ্ডুল করলে ব্যবস্থা হবে। কিন্তু তাতেও দমল না বিরোধীরা। বৃহস্পতি-শুক্র, পরপর দুদিন বাজেটের ওপর চর্চার চেষ্টা করেও শুরুই করা গেল না। প্রথমে তিন, পরে বেলা ১২ টায় সাত মিনিটের মাথায় সারাদিনের ঩জন্য লোকসভা মুলতুবি। সোমবারও বাজেট আলোচনা আরম্ভ করা যাবে কি না, তা নিয়ে চাপে মোদি সরকার। সংসদের বাইরেও এদিন চলল, মোদি আর ডোনান্ড ট্রাম্পের কার্টুন আঁকা ‘ট্র্যাপ ডিল’ লেখা ফেস্টুন নিয়ে তির্যক প্রতিবাদ।

Advertisement

লোকসভার কক্ষে কাগজ ছিড়ে, ছুড়ে বিক্ষোভ দেখানোর ‘অপরাধে’ কংগ্রেসের সাত সদস্যকে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সভায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। সাসপেন্ড করেছেন স্পিকার। তবে তাতেও দমেননি রাহুল গান্ধী। উলটে দলকে বলেছেন, চালিয়ে যাও। এই বিক্ষোভে রাহুলের পাশে তৃণমূল সহ সমগ্র বিরোধী। তাই শুক্রবারও সভার অন্দরে-বাইরে প্রবল বিক্ষোভ প্রদর্শন হল। সরকারকে একপ্রকার চ্যালেঞ্জ, সভা চলতে দেব না। দেখি কী করে বাজেটের আলোচনা শুরু হয়। সংসদের বাইরে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘লোকসভায় আসতেই ভয় পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। চীন, আমেরিকার কাছে সারেন্ডার করেছেন।’

ইস্যু হল, প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানের স্মৃতিকথা। ফোর স্টারস অব ডেস্টিনি। যে বইয়ের ২৯৫ পাতার ২৪ নম্বর লাইনে লেখা একটি সংলাপকে সমালোচনায় শান দেওয়ার অস্ত্র হাতে পেয়েছে বিরোধীরা। যেখানে লেখা, ২০২০ সালে ভারত-চীন সীমান্তে গলওয়ানে চীন সেনা যখন ঢুকে পড়েছে, তখন কী করব জানতে চেয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে ফোন করেছিলেন নারাভানে। কারণ, কোনো দেশের সঙ্গে যুদ্ধ হবে কি না,  সে সিদ্ধান্ত হয় রাজনৈতিক। পলিটিক্যাল ডিসিশন। সরকারের শীর্ষস্তরে সিদ্ধান্ত হয়। সেনা সেই ঩সিদ্ধান্ত পালন করে। বইতে নারাভানের দাবি, অনেকক্ষণ পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফোন করে জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। জো উচিত সমঝো ওহি করো।

রাহুল গান্ধী তথা বিরোধীদের দাবি, আদতে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছেন মোদি। তাই এই সংলাপ। একইভাবে সম্প্রতি আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতেও ভারতের কৃষকদের বিপদ বলেই বিরোধীদের দাবি। তাই ট্রেড ডিল নয়, ট্র্যাপ ডিল অর্থাৎ ফাঁদ চুক্তি বলেই কংগ্রেসের দাবি। তাই শুক্রবার কংগ্রেস সহ বিরোধীরা যখন স্লোগান তুলছে, সারেন্ডার মোদি, রাহুল গান্ধী বিক্ষোভে গলা মিলিয়ে কটাক্ষের সুরে বলছেন, জো উচিত সমঝো ওহি করো!

সম্পর্কিত সংবাদ