


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বাংলাকে চমকানো, ধমকানোর জবাব দেওয়া হবে ভোটবাক্সে! কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে খোলা চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শাহ যখন বাংলায় ভোটপ্রচারে এসে তৃণমূলকে উলটো করে ঝুলিয়ে দেওয়ার নিদান দিচ্ছেন, তখন অভিষেকের জবাব—‘বাংলাকে চমকানোর স্পর্ধা দেখাবেন না। সৎ সাহস থাকলে ৪ মে বেলা ১২টার পর বাংলায় থাকবেন অমিতবাবু!’
দ্বিতীয় দফার ভোটের চারদিন আগে রাজনৈতিক উত্তাপে টগবগ করে ফুটছে বাংলা। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষের পর সেই পারদ দ্বিগুণ চড়েছে। শুক্রবার নিজের সংসদীয় এলাকা ডায়মন্ডহারবারে সেই উত্তাপ ধরে রেখেই বিজেপি বিরোধী কণ্ঠস্বরকে উচ্চগ্রামে নিয়ে গিয়েছেন তৃণমূল সেনাপতি। আরও বেশি আক্রমণাত্মক শুনিয়েছে অভিষেকের গলা। জনসভায় বক্তব্য শুরুই করেছেন প্রথম দফার ভোট শেষে তৃণমূলের কাছে আসা এলাকা ভিত্তিক বিভিন্ন তথ্য ধরে। স্পষ্ট বলেছেন, ‘প্রথমেই আপনাদের একটা সুখবর দিই। প্রথম দফার ভোটে তৃণমূলের আসন সংখ্যা ১০৫ হতে পারে। ১১০ হতে পারে। জয়যাত্রা কোথায় গিয়ে থামবে জানি না। আর প্রথম দফার ভোট শেষ হওয়ার পর থেকে বিজেপির ছটফটানি যেন বেড়ে গিয়েছে। এর মূল কারণ হল, আমরা প্রথম দফাতেই সেঞ্চুরি পার করে ফেলেছি।’ এখানেই শেষ নয়, অভিষেক কোনো রাখঢাক না রেখে ঘোষণা করেছেন, ‘নন্দীগ্রামে তৃণমূল জিতবে, কথা দিয়ে গেলাম!’
তৃণমূল প্রার্থী সুবীর চট্টোপাধ্যায় ও তাপস মাইতির সমর্থনে জগৎবল্লভপুরে, পরেশ রাম দাসের সমর্থনে ক্যানিংয়ে এবং পান্নালাল হালদারের সমর্থনে ডায়মন্ডহারবারে এদিন প্রচার করেন অভিষেক। প্রত্যেকটি সভাতেই ছিল রেকর্ড ভিড়। বিশেষ করে ডায়মন্ডহারবারে জনপ্লাবনের নয়া ইতিহাস তৈরি করেছে বলে দাবি জোড়াফুল শিবিরের। তিনটি কর্মসূচি থেকেই অভিষেকের নিশানায় ছিলেন অমিত শাহ। বাংলায় ভোট প্রচারে এসে যে ধরনের শব্দ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যবহার করেছেন, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে অভিষেক বলেন, ‘গুজরাত, মধ্যপ্রদেশের গুন্ডারা এসে আমাদের চমকাচ্ছেন, ধমকাচ্ছেন। স্বয়ং অমিত শাহ বাংলায় এসে বলছেন সোজা করে দেব। আমি ওঁকে বলব, এত স্পর্ধা দেখাবেন না। গরম পড়েছে মাথা ঠান্ডা রাখুন, বেশি করে জল খান। ৪ মে দেখা হবে। বাংলার মানুষকে অপমান করছেন। এর জবাব পাবেন। বাংলার মাটি আমাদের জন্মভূমি। এই মাটিতেই আমাদের বেড়ে ওঠা। এখানে বিজেপি নেতারা এসে আমাদের ধমকাবেন, মানব না!’
তৃণমূল সেনাপতি আরও জানিয়েছেন, ২৩ এপ্রিল ভোটের মাধ্যমে বিজেপিকে জবাব দেওয়া হয়েছে। ২৯ তারিখে বিজেপিকে জবাব দিতে বাংলা প্রস্তুত। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা যে ভাষা বোঝেন, সেই ভাষাতেই জবাব হবে ভোটের মাধ্যমে। তৃণমূল ভোটটা করাতে জানে। তৃণমূলের পতাকা পতপত করে যেমন উড়ছে, তেমনই উড়বে। কিন্তু বিজেপির ঝান্ডা ধরার লোক নেই!