


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ডাক্তারদের হাজিরার অবস্থা শোচনীয়! তাই রাজ্যের একাধিক মেডিক্যাল কলেজের কর্তাদের বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে তুমুল ভর্ৎসনা করলেন চিকিৎসা শিক্ষায় সর্বভারতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের (এনএমসি) কর্তারা। এনএমসি অফিসে তখন সামনেই ছিলেন স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম ও স্বাস্থ্য অধিকর্তা (শিক্ষা) ডাঃ ইন্দ্রজিৎ সাহা। অন্যদিকে ভার্চুয়ালি উপস্থিত বাংলার ৮ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ। এনএমসি কর্তারা বলেন, আপনাদের কলেজগুলি একসময় দেশে মেডিক্যাল শিক্ষার পীঠস্থান ছিল। অথচ এখন বেশ কয়েকটি মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারদের হাজিরা ৫০ শতাংশেরও কম!
এদিকে বৈঠকের পরপরই কড়া নির্দেশনামা বের করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, অনলাইনে ছুটি বা স্টেশন লিভের আবেদন ছাড়া (আধার এনাবেলড বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম) মুখের হাজিরা ৭৫ শতাংশের নীচে থাকলে বেতন আটকে দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, হাজিরা সহ একাধিক কারণে গত বছরের মতোই এবারও রাজ্যের ২৩টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজকে কিছুদিন আগেই লাখ লাখ টাকার জরিমানার চিঠি ধরায় এনএমসি। এবারও তার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের নির্দেশে আপিলের পথে হাঁটছে কলেজগুলি। ছাড়ার পাত্র নয় এনএমসি’ও। তারা বৃহস্পতিবার বাংলার ২৩টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষকে অনলাইন বৈঠকে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেয়। শেষপর্যন্ত ৮টি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ বৈঠকে অনলাইন ছিলেন। বৈঠকে বিভিন্ন রোগ ও রক্তপরীক্ষার রিপোর্ট সময়ে ঠিকমতো আপডেট করা হচ্ছে না বলেও ক্ষোভ ব্যক্ত করেন এনএমসি কর্তারা।
বৈঠকের পর অধ্যক্ষ ও শিক্ষক চিকিৎসকদের একাংশ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এত কম হাজিরা হতেই পারে না। তাঁদের যুক্তি—জাতীয় কমিশন ও স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে পরিদর্শন বা পরীক্ষক হয়ে যাওয়া, স্বাস্থ্যভবনের বিভিন্ন বৈঠক যোগদান করা সহ সরকারি কারণেই তাঁরা বহুসময় কলেজে উপস্থিত থাকতে পারেন না। কিন্তু থাকেন তো ‘অন ডিউটিই’। সেই হিসেব রেকর্ড করা হয় না। পাল্টা মত হল, বেলাগাম প্রাইভেট প্র্যাকটিসে শিক্ষক চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ মন দেওয়াতেই কলেজে কলেজে হাজিরার অবস্থা এত খারাপ। স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম বলেন, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে কোনও মন্তব্য করব না।