পুজোতে ফ্ল্যাট ফাঁকা রেখে সবাই মিলে অঞ্জলি দিতে যাবেন না!  বাসিন্দাদের সতর্ক করছে লালবাজার
  • ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘পুজোতে ফ্ল্যাট ফাঁকা রেখে সবাই মিলে প্যান্ডেলে অঞ্জলি দিতে যাবেন না!’ শহরবাসীকে ঠিক এই ভাষাতেই সতর্ক করছেন লালবাজারের অ্যান্টি বার্গলারি স্কোয়াড বা চুরি দমন শাখার গোয়েন্দারা। প্রতিবছর পুজোর ক’টা দিন কলকাতায় আর পাঁচটা অপরাধ এক ধাক্কায় অনেকটা কমে গেলেও, চুরি অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে শহরবাসীকে সতর্ক করছে লালবাজার।

Advertisement

লালবাজারের অভিজ্ঞ গোয়েন্দাদের কথায়,  ‘সাধারণত, পুজোর সময়ে বাঙালি বাড়ি বা ফ্ল্যাট ফাঁকা রেখে মন্ডপে যাওয়ার পাশাপাশি সপরিবারে বেড়াতে বেরিয়ে পড়েন। প্রতিবার এই সুযোগটাকে কাজে লাগায়, দক্ষিন ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের জীবনতলা, ঘুটিয়ারিশরিপ, মহেশতলা, রবীন্দ্রনগর, আকড়া সন্তোষপুর থেকে আসা দাগী দুষ্কৃতীদল।  এছাড়াও কলকাতার ট্যাংরা, এন্টালি, কড়েয়া, নারকেলডাঙার স্থানীয় দাগী দুষ্কৃতীরা বাড়ি ফাঁকা পেলেই, ফ্ল্যাটের সদর দরজার কোলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে আলমারি ফাঁকা করতে ওস্তাদ। গামছা, সাঁড়াশি আর স্ক্রু ড্রাইভার থাকলে মিনিট খানেকর কম সময়ে এই দুষ্কৃতীরা নামী দামী সংস্থার আলমারির তালা ভাঙা এদের কাছে কার্যত জলভাত!’

প্রতিবার কলকাতা শহরে একাদশীর থেকে লক্ষীপুজো পর্যন্ত থানাগুলিতে চুরির অভিযোগ দায়ের করার ঢল নামে। তাই দিন হোক বা রাত, পুজোর ক’টা দিন বাড়ি ফাঁকা রেখে, সবাই মিলে বেরিয়ে পড়বেন না। একান্তই বাড়ি ফাঁকা রেখে কোথাও যেতে হলে, স্থানীয় থানাকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে যান। পারলে, একজন কেয়ারটেকার রাখুন। সম্ভব হলে, বা঩ড়ির সদর দরজার পাশাপাশি ঢোকা বা বের হওয়ার পথে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে দেন। তাহলে কিছুটা হলেও বাড়ি সুরক্ষিত থাকবে।

কলকাতা শহরের  টালা,  সিঁথি, যাদবপুর, সার্ভে পার্ক, পাটুলি, পঞ্চসায়রের মতো থানা বরাবরই চুরির জন্য কুখ্যাত! গোয়েন্দাদের কথায়, শিয়ালদহ সাউথ শাখার রেল লাইন সংলগ্ন থানাগুলোতে চুরির দাপট বরাবর বেশী। কারণ, দাগী চোরের দল মাঝরাতে শেষ লোকাল ধরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে কলকাতায় ঢোকে। আর রাতে ফাঁকা ফ্ল্যাটের সর্বস্ব হাতিয়ে ভোরের ফার্স্ট লোকাল ধরে উধাও হয়ে যায়।  

তাই লালবাজারের গোয়েন্দারা শিয়ালদহ সাউথ লাইনের ফার্স্ট আর লাস্ট লোকালে  বরাবর নজরদারি চালিয়ে থাকেন। কিন্তু সমস্যা হল, পুজোর দিনে গোয়েন্দারা ব্যস্ত থাকেন শহরের পুজো প্যান্ডলের ভিড় সামলাতে। ফলে নজরদারির খামতি  থেকেই যায়। তাই বাড়তি সতর্ক থাকলে, সর্বস্ব খোয়ানোর হাত থেকে বাঁচতে পারেন!