পশ্চিমবঙ্গের সমাজজীবন, সংস্কৃতিতে আদিবাসী-জনজাতির প্রভাব প্রাচীনকাল থেকেই। সাঁওতাল, মুণ্ডা, লোধা, খেড়িয়া, বিরহড়, ওরাওঁ, শবর সহ নানা উপজাতি এরাজ্যের পাহাড়ে, জঙ্গলে, সমতলে ছড়িয়ে। অধিকাংশই এখন সমাজের মূলস্রোতে নাম লিখিয়েছে। অনেকে এখনও নিজেজের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার চেষ্টায়। এই তালিকায় তুলনামূলক কম চর্চিত এক উপজাতির নাম কাকমারা। পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্তে, বিশেষ করে মেদিনীপুরের ডিঙ্গলবেড়িয়া, ভগবানপুর, দোবাঁধি, পিছাবনী সহ একাধিক জায়গায় তাদের বসবাস। কিন্তু কাকমারা নাম কেন? ইতিহাস বলছে, এরা অনার্য দ্রাবিড় গোষ্ঠী ভুক্ত। দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু এদের আদি বাসস্থান। স্বভাবে পরিযায়ী মানুষগুলি একসময় দলে দলে বাংলায় এসে পাহাড়ে-জঙ্গলে বসবাস করতে শুরু করে। একটা সময় কাক মেরে তাদের মাংস ভক্ষণ করত এই উপজাতি। আর সেই থেকেই তারা লোকমুখে পরিচিত ‘কাকমারা’ নামে। এদের দৈহিক গড়নও একটু ভিন্ন। ঘোলাটে লাল চোখ, ভোঁতা নাক, কুচকুচে কালো গায়ের রং আর চওড়া কপাল। সবসময় সঙ্গে থাকে পোষা একটি কুকুরও। তালপাতা দিয়ে তৈরি বা কাপড়ের একটি ঝোলা থাকে এদের কাঁধে। ঝোলা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে পথে। আগে শূকর চরিয়ে, শিকার করে, বন্য ফলমূল খেয়েই জীবন কাটত। এখন ঝোলা কাঁধে বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করতে দেখা যায় অনেককে। যদিও সংখ্যাটা খুবই কম। হাতে থাকে কাইত নামক লাঠির মতো একটি জিনিস আর একটা ছোট্ট ছুরি। বেশিরভাগের হাতেই লোহার চুড়িও দেখা যায়। ছুরি দিয়ে লোহার চুড়িতে শব্দ করে এরা তামিল-তেলুগু ভাষায় গান করে গাঁয়ে গাঁয়ে ভিক্ষা চায়। এখনও কাকমারাদের মধ্যে রোগ সারাতে বিভিন্ন রকমের জড়িবুটি, ঝাড়ফুঁক ও মন্ত্রতন্ত্র ব্যবহারের রীতি রয়েছে।



