নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম উন্নয়নের হাত ধরে সেজে উঠেছে। প্রশাসনিক ভবন, আদালত, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। জেলার প্রত্যন্ত গ্ৰামীন এলাকায় এখন পাকা রাস্তা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশ্ব আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানে বিপুল অর্থের প্রকল্প ও শিলান্যাসের কথা উল্লেখ করেছেন। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে সেইসব প্রকল্পের উন্নয়নমূলক কাজকে হাতিয়ার করে তৃণমূল নেতৃত্ব এবার প্রচার নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বছর ঘুরলেই ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট। ভোট যুদ্ধে ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের অন্যতম হাতিয়ার এবার উন্নয়ন। তৃণমূলের পাশা উল্টে দিতে গেরুয়া ও বাম শিবির তৎপরতা শুরু করেছে। জেলার বাম নেতা ও কর্মীরা সাংস্কৃতিক সংগঠনের আড়ালে বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রচার চালাচ্ছে। পার্টি ঘেষা বাম মনোভাবাপন্ন ব্যাক্তিদের সামনে আনা হচ্ছে। রাজনৈতিক জমি শক্ত করতে কৌশলী প্রচার চালানো হচ্ছে। গেরুয়া শিবির ঝাড়গ্রামের জমি ফিরে পেতে এবার মরিয়া। বিজেপির কঙ্কালসার সংগঠনকে পরিকল্পিতভাবেই সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্ব যাতে লড়াইয়ে ঢিলে দেয়। সঙ্ঘের সদস্যরা আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় নীরবে প্রচার চালাচ্ছেন। অরণ্যভূমির স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে মুছে ফেলতে গেরুয়া ভাবাদর্শকে তুলে ধরতে চেষ্টা করছে। উন্নয়নকে দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করা মানুষ বিজেপির নয়া প্রচার কৌশলের গোলকধাঁধায় ঢুকে পড়ছেন। রাস্তাঘাটে আলোচনা, সমাজমাধ্যমে প্রতিদিন তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব কাছেও বিষয়টি অজানা নয়। তৃণমূলনেত্রী জেলায় এসে ভাষার সম্মান রক্ষার লড়াইয়ের ডাক দিয়ে গিয়েছেন। ঝাড়গ্রামের পোড় খাওয়া তৃণমূল নেতারা মানছেন ছাব্বিশের ভোটযুদ্ধে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক রক্ষার লড়াই মিলেমিশে যাবে। সেই লড়াইয়ে উন্নয়নমূলক কাজকে আরও বেশি করে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দু'দিনের জেলাসফরে বার বার পিছিয়ে পড়া ঝাড়গ্রামের বদলে যাওয়ার ছবি উঠে এসেছে। ঝাড়গ্রাম ব্লকের এক প্রবীণ তৃণমূল নেতা বলেন, উনিশ সালের ভোটে জেলার গেরুয়া শিবিরের সামনে যারা ছিলেন তাদের বিজেপির কর্মকান্ডে দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু সঙ্ঘের হয়ে তাঁরা কাজ করে চলেছেন। তৎকালীন সময়ের দলবিরোধী অনেক ব্যক্তি স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডেকে নিয়ে যাচ্ছেন। এলাকায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করছেন। রাজ্য নেতৃত্বের ছোটখাটো ভুলকে তাঁরাই আবার সমাজমাধ্যমে তুলে ধরছেন। উন্নয়নমূলক কাজকে আড়াল করে দেবার কৌশলী চেষ্টা করা হচ্ছে। জেলার নেতাদের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে সচেতন নন। দলনেত্রী ভোট যুদ্ধের অভিমুখ কোন দিকে তার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশকে সামনে রেখে জেলা নেতৃত্ব এগোতে চাইছেন। জেলা তৃণমূলের সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেন, জেলায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে মানুষের কাছে আমাদের আরও বেশি করে পৌঁছাতে হবে। দলের সকলস্তরের নেতা কর্মীদের এই দায়িত্ব নিতে হবে। বিরোধী শিবির জেলাকে অশান্ত করার জন্য নানা কৌশল নেবে। জনস্বার্থ বিরোধী সেই কৌশল থামাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী এবার জেলায় এসে বিপুল অর্থের প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করে গিয়েছেন। সামনের দিনে প্রচারে তা তুলে ধরা হবে। তার সবরকম প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি।