Bartaman Logo
৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভোটারদের টাকা বিলি সুষ্ঠু গণতন্ত্র নয়, বার্তা রিজিজুর

কিরেন রিজিজু ভোটারদের টাকা বিলির বিরুদ্ধে সাফ জানালেন। সুষ্ঠু গণতন্ত্রে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়। বিস্তারিত পড়ুন।

ভোটারদের টাকা বিলি সুষ্ঠু গণতন্ত্র নয়, বার্তা রিজিজুর
  • ৪ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভারতের রাজনীতিতে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ নতুন নয়। লোকসভা ভোট হোক বা কোনো রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন—টাকা ছড়িয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠে আকছার। তবে ভোটারদের এভাবে টাকা বিলি সুষ্ঠু গণতন্ত্র নয় বলেই সাফ জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রের সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। সেই সঙ্গে সাংসদ, বিধায়কদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কেও জরুরি বার্তা দিলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘একজন জনপ্রতিনিধির যদি পরের বারও নির্বাচিত হওয়ার মনোভাব থাকে, তাঁর প্রধান কাজ হবে মানুষের সমস্যা মেটানো এবং পরিশ্রম করা।’

Advertisement

শুক্রবার থেকে নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিধায়কদের প্রশিক্ষণ শিবির। কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছেন, এমন বিধায়কের সংখ্যা ১৮১। তাছাড়া একাধিকবার নির্বাচিত হলেও অনেক বিধায়কের বয়স বেশ কম। তাই সামগ্রিকভাবে সব বিধায়ককেই প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। আজ, শনিবারও চলবে এই শিবির। এই ধরনের কর্মসূচি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বিস্তারিত তুলে ধরেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। বলেন, ‘বিধায়কদের কাছে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা থাকবেই। তা পূরণ করতে গেলে প্রশাসনিক ও পরিষদীয় রাজনীতির বিষয়ে বিধায়কদের জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরি।’ 
এই মঞ্চেই বিধায়কদের দায়িত্ব, কর্তব্যের পাঠ দেন রিজিজু। টাকা ছড়িয়ে ভোট কেনার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করেন তিনি। বলেন, ‘দেশের কোনো কোনো জায়গায় আজকাল ভোটারদের টাকা দেওয়া হচ্ছে। এটা কীভাবে বন্ধ করা যায়, দেখতে হবে। টাকা দিয়ে নির্বাচন জেতা ঠিক নয়।’  রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ‘নোট’ দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ এবং এর ব্যাপকতা এখন এতটাই বেড়েছে যে সংসদীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। তিনি খোলাখুলি জানিয়েছেন, সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশে এসব কখনওই কাম্য নয়। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগের বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, ‘সিপিএমের ৩৪ বছরে যা কিছু হত, সব পার্টি অফিস থেকে। আর তৃণমূলের ১৫ বছরে কী হয়েছে, সবাই দেখেছে। বিরোধী দলনেতাকে পাঁচবার সাসপেন্ড করা হয়েছিল। বিরোধী দলের সাংসদ, বিধায়কদের মর্যাদা দেওয়া হত না। প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের ডাকা হত না। আমরা সেটা পরিবর্তন করেছি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ