


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বাদুড়িয়ায় ভোটার অপহরণ কাণ্ডে নয়া মোড়। পাঁচদিনের মাথায় মিলল নিখোঁজ ‘ভোটার’ নাসির আলির প্যাকেটবন্দি খণ্ডবিখণ্ড দেহ। শুক্রবার গভীর রাতে বাদুড়িয়ার চাতরা ও তার আশপাশে পৃথক তিনটি খাল থেকে উদ্ধার হয়েছে দেহাংশ। প্লাস্টিকের প্যাকেটে নাসিরের হাত-পা ছাড়াও দেহের বিভিন্ন অংশ খণ্ড-বিখণ্ড অবস্থায় ছিল। উদ্ধারের পর সেগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বসিরহাট জেলা হাসপাতালের পুলিশ মর্গে। তদন্তকারীদের দাবি, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক। আর এতে সুপারি কিলার ছিল ধৃত বিএলও রিজওয়ান হাসান মণ্ডলের বন্ধু সাগর গায়েন। মোটা টাকার বরাত দেওয়া হয়েছিল সাগরকে।
জানা গিয়েছে, নিহত নাসির আলির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল পাপলিয়া ২২ নম্বর বুথের বিএলও রিজওয়ান হাসান মণ্ডলের। সেই সম্পর্কের কথা জেনে ফেলায় পথের ‘কাঁটা’ নাসিরকে সরাতে পরিকল্পিতভাবে এসআইআরের নথিপত্র চেয়ে ফোন করে ডেকে আনেন তিনি। এরপরই অপহরণ করে নির্জন একটি জায়গায় নিয়ে গিয়ে তাঁকে কুপিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। পরে নাসিরের দেহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে টুকরো টুকরো করে প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে তিনটি খালে ভাসিয়ে দেন ‘খুনি’রা। এদিকে, অপহরণের অভিযোগে শুক্রবার বিএলও রিজওয়ান হাসান মণ্ডল এবং তাঁর সহযোগী সাগর গায়েনকে গ্রেপ্তার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তাদের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই প্রকাশ্যে আসে হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড। ওইদিন রাতেই বিএলও রিজওয়ান ও তার সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে তিনটি খালে ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি চালায় বসিরহাট জেলা পুলিশ। আর তাতেই মেলে সাফল্য।
বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভোটারের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের হয়েছিল বাদুড়িয়া থানায়। এবার ধৃত বিএলও রিজওয়ান হাসান মণ্ডল ও তার সহযোগী সাগরের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করল পুলিশ। দেহ উদ্ধারের পর অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে ধৃত বিএলওর বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। পুলিশের একটি বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, নাসিরের স্ত্রীর ‘পরামর্শ’ মতোই এই খুনের পরিকল্পনা করা হয়। রাতেই ফোন করে ডেকে পাঠানো হয়েছিল নাসিরকে। স্ত্রীর কথা মতো ‘এইআরও’ পরিচয় দিয়েছিল রিজওয়ানের শাগরেদ সাগর। এ নিয়ে বসিরহাট পুলিশ জেলার সুপার হোসেন মেহেদি রহমান বলেন, একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। ধৃতদের জেরা করে আরও অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। মূলত বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কারণেই এই খুনের ঘটনা। সাগর ছিল সুপারি কিলার। বাজারে তার মোটা টাকা ঋণ ছিল। সেই টাকা শোধ করতে এই পথ বেছে নেয় সে। এই খুনে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি, সোমবার সন্ধ্যায় একটি ফোন পান নাসির আলি। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে নিজেকে এইআরও বলে পরিচয় দেন এক যুবক। জানানো হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হবে। তাঁকে আধার কার্ড ও ভোটার পরিচয়পত্রের প্রতিলিপি নিয়ে অবিলম্বে দেখা করতে বলা হয়। তাঁকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় যেতে বলা হয় বলেও অভিযোগ। পরিবারের দাবি, ফোন পাওয়ার পর তড়িঘড়ি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান নাসির। এরপর থেকে তাঁর আর খোঁজ মেলেনি। শুক্রবার তাঁর খণ্ড-বিখণ্ড দেহ উদ্ধার হয়েছে।