Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

মোদি সরকারের হিসাবে ৫৪ হাজার কোটির গরমিল, ক্যাগ রিপোর্টে তোলপাড় দেশ

মোদি সরকারের হিসাবে ৫৪ হাজার কোটির গরমিল, ক্যাগ রিপোর্টে তোলপাড় দেশ

মোদি সরকারের হিসাবে ৫৪ হাজার কোটির গরমিল, ক্যাগ রিপোর্টে তোলপাড় দেশ
  • ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’— দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘ধর্মযুদ্ধ’ ঘোষণার দাবি প্রতিনিয়ত করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অথচ, চলতি মাসে সংসদে পেশ হওয়া রিপোর্টে তাঁর সরকারের স্বচ্ছতা নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে দেশের শীর্ষ অডিট সংস্থা কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা ক্যাগ। মোদি সরকারের দেওয়া হিসাবে ৫৪ হাজার ২৮২ কোটি ৩২ লক্ষ টাকার গরমিল ধরা পড়েছে সেই রিপোর্টে। ক্যাগের দাবি, একের পর এক মন্ত্রক ও দপ্তর বিভিন্ন খাতে টাকা বরাদ্দ করেছে। অথচ সেই টাকার খরচ সংক্রান্ত ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট নেই! তাহলে খরচ হওয়া ওই বিপুল অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে গেল কোথায়? সেটা জানেই না মোদি সরকার! ক্যাগ এভাবে খোদ কেন্দ্রের দিকে আঙুল তোলায় তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশজুড়ে।

Advertisement

এর আগেও মোদি সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে এনেছে দেশের শীর্ষ অডিট সংস্থা। সেগুলির মধ্যে অন্যতম—দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়েতে প্রতি কিলোমিটার রাস্তা তৈরির খরচ ১৮.২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২৫০ কোটি টাকা হয়ে যাওয়া, ভারতমালা প্রকল্পে অনুমোদিত খরচের তুলনায় নির্মাণের ব্যয় ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে একই মোবাইল নম্বরে প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ সুবিধাপ্রাপক! আর এবার ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ শেষ হওয়া অর্থবর্ষে সরকারি কোষাগার থেকে ৫৪ হাজার কোটি টাকা কার্যত উবে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হল ক্যাগের অডিট রিপোর্টে। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সেখানে হিসাবে অনিয়ম ও পদ্ধতিগত ব্যর্থতার অভিযোগ তোলা হয়েছে। রিপোর্টে জানানো হয়েছে, মোট ১৫টি মন্ত্রক ও দপ্তর থেকে ছাড়া হয়েছে ওই ৫৪ হাজার কোটি টাকা। সবথেকে বেশি গরমিল ধরা পড়েছে আবাসন ও নগরোন্নয়ন (১৮ হাজার ২৭২ কোটি ৯১ লক্ষ টাকা) ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরে (১৪ হাজার ৩৫৯ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা)। যদিও তা কোথায় কীভাবে খরচ হয়েছে, সেই ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট (ইউসি) সরকারের কাছে নেই। নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও সব মিলিয়ে এরকম ৩৩ হাজার ৯৭৩টি ইউসি সরকারের ঘরে জমাই পড়েনি। ‘বেহদিশ’ ওই বিপুল পরিমাণ অর্থের মধ্যে ৩৮ হাজার ২৮৭ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে বিগত তিনটি অর্থবর্ষে, ২০২১-২২ থেকে ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে। এক্ষেত্রে ২০১৭ সালের জেনারেল ফিন্যান্সিয়াল রুলস (জিএফআর)-এর ২৩৮ বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। কারণ ওই বিধি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার ১২ মাসের মধ্যে ইউসি পেশ করতে হয়।

সম্পর্কিত সংবাদ