সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: পরিবারের ১৫ সুস্থ সদস্যর নামে মানবিক তথা প্রতিবন্ধী ভাতা তুলে নেওয়ার মারত্মক অভিযোগ। কাঠগড়ায় পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সদস্য। সামশেরগঞ্জের তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য অসিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা জানাজানি হতেই তীব্র আলোড়ন পড়ে যায় ব্লকে। তৃণমূল নেতার এমন কীর্তির প্রতিবাদে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপি সহ তামাম এলাকাবাসী। সামশেরগঞ্জের বিডিও সমীরণকৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, বিষয়টি নজরে আসতেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সামশেরগঞ্জের পঞ্চায়েত সমিতি সদস্য অসিকুল ইসলামের পরিবারের এক দীর্ঘ তালিকা সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, অসিকুলের স্ত্রী রেশমা লাইলা থেকে শুরু করে তাঁর তিন ছেলে মহম্মদ আদিল ইসলাম, মহম্মদ সাইফ ইসলাম ও সাজিদ ইসলাম সবাই সম্পূর্ণ সুস্থ এবং স্বাভাবিক। তা সত্ত্বেও সরকারি খাতায় তাঁদের ‘প্রতিবন্ধী’ সাজিয়ে প্রতি মাসে মানবিক ভাতা পকেটস্থ হচ্ছিল। শুধু স্ত্রী বা ছেলেরাই নন, এই দুর্নীতির জাল বিস্তৃত নেতার ভাই, কাকা, ভাইপো এবং ভাইঝি পর্যন্ত! পরিবারের মোট ১৫ সদস্যের নাম রয়েছে এই উপভোক্তার তালিকায়, যাঁদের প্রত্যেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও সবল বলে দাবি স্থানীয়দের। এর ফলে এলাকার অনেক যোগ্য প্রতিবন্ধী এই ভাতা পাননি, বলে গ্রামবাসীর অভিযোগ।
বিষয়টি সামনে আসতেই সুর চড়িয়েছে বর্তমান শাসক দল বিজেপি থেকে অন্য বিরোধীরা। দক্ষিণ মালদহ জেলা বিজেপির সেক্রেটারি প্রবীর সাহা বলেন, বিষয়টি সমাজমাধ্যমে আমারও নজরে এসেছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এই নিয়ে কী পদক্ষেপ করছে, তার খোঁজ নেব। তৃণমূলের আমলে আকছার এমন দুর্নীতি হয়েছে। তবে আমাদের সরকারের নজর রয়েছে।
অন্যদিকে, দোগাছি ন’পাড়া পঞ্চায়েতের সিপিএম সদস্য ঈশান আলি বলেন, অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তবে প্রশাসন অবিলম্বে তদন্ত করে যথাযোগ্য ব্যবস্থা নিক। বিজেপি ও সিপিএম নেতৃত্বের আশঙ্কা, সঠিক তদন্ত হলে ব্লক জুড়ে ভুয়ো প্রতিবন্ধী ভাতা প্রাপকদের সংখ্যা আরও বহুগুণ বাড়বে।
এদিকে, এই বিপুল দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও মুখে কুলুপ এঁটেছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা অসিকুল ইসলাম। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে তাঁকে ফোন করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। শুধু বলেন, এ বিষয়ে যা বলার পরে বলব। তবে এই ঘটনায় তৃণমূল দলের অস্বস্তি যে চরমে পৌঁছেছে, তা মানছেন স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশ।