নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খাদ্যদপ্তরের লাইসেন্সধারী সকলকেই তাঁদের ব্যবসার জায়গায় বাধ্যতামূলকভাবে সিসি ক্যামেরা বসাতে হবে। অর্থাৎ তাঁদের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত সমস্ত কাজের জায়গাকে বোঝানো হয়েছে। রেশন ডিলার-ডিস্ট্রিবিউটররা খাদ্যদপ্তরের লাইসেন্স নিয়ে কাজ করেন। ফলে রাজ্যের ২০ হাজারের বেশি রেশন দোকানও সিসি ক্যামেরা নজরদারিতে আসছে বলেই মনে করা হচ্ছে। খাদ্যদপ্তরের সচিবের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যেখানে ক্রেতাদের সঙ্গে লেনদেন হয় সেখান থেকে অনেক অনিয়মের অভিযোগ আসছে। তাই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সেসব স্থানে নজরদারি জরুরি। প্রবেশ ও প্রস্থানের জায়গাতেও নজরদারি রাখতে হবে। কোনো অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করার ক্ষেত্রে সিসি ক্যামেরার ছবি সহায়ক হবে। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এই ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজের সময় সিসিটিভি সবসময় চালাতে হবে এবং ছবি সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে অন্তত সাতদিন পর্যন্ত।
রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানান, তাঁদের দোকানে সিসি ক্যামেরা বসাতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে এই সংক্রান্ত দায়িত্ব খাদ্যদপ্তরকেই নিতে হবে। অতিরিক্ত খরচের দায়িত্ব যেন ডিলারদের উপর না-চাপে। দুয়ারে রেশন এখন বেশিরভাগ দিন দিতে হয়। তার মধ্যে সিসি ক্যামেরার নজরদারি কীভাবে হবে, সেই প্রশ্ন উঠেছে। রেশনের খাদ্যসামগ্রীর লেনদেন এখন হয় অনলাইন প্রক্রিয়ায় এবং ই-পস যন্ত্রে। ই-পসের যাবতীয় খরচ খাদ্যদপ্তর দেয়। যদিও খাদ্যদপ্তরের নির্দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিলারদেরই সিসিটিভি বসাতে বলা হয়েছে। এই খাতে কোনো বিশেষ অর্থ দেওয়া হবে কি না তা বলা হয়নি।
এদিকে খাদ্যদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ডিরেক্টর ডিডিপিএস পদে আইএএস আধিকারিক অনশুল গুপ্তাকে আনা হয়েছে। তিনি তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের ডিরেক্টর পদে আছেন। তিনি ওইসঙ্গে সামলাবেন খাদ্যদপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্ব। এতদিন ডিডিপিএস পদে ছিলেন সুমন ঘোষ। তিনি খাদ্যদপ্তরেই বিশেষ সচিব হিসাবে থাকছেন।