


রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, বঙ্গ বিজেপিতে তত চওড়া হচ্ছে ফাটল। এককথায় ঠিক গত লোকসভা নির্বাচনের মতো চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তি। এবারও দলের আদি নেতাদের কোণঠাসা করতে সক্রিয় দলবদলু-তৎকাল নেতারা। ফের নিশানায় দিলীপ ঘোষ। যাঁর সভাপতিত্বে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি গঠনের পর থেকে এখনও পর্যন্ত ২০১৯ লোকসভা ও ২০২১ বিধানসভা ভোটে সর্বোচ্চ আসন পেয়েছিল। এহেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতিকে আবার ‘পিছন থেকে ছুরি’ মারতে উদ্যত পার্টির একাংশ। সূত্রের দাবি, আসন্ন নির্বাচনে দিলীপ ঘোষকে পদ্ম প্রতীকে লড়াতে চাইছে পার্টি। কিন্তু বিতর্ক বেঁধেছে তাঁর সম্ভাব্য কেন্দ্র কী হবে, তা ঘিরে। দিলীপবাবু ২০১৬ সালে খড়্গপুর (সদর) কেন্দ্র থেকে প্রথমবার লড়াই করে জয়লাভ করেছিলেন। এবারও তিনি সেই কেন্দ্রে লড়তে ইচ্ছুক। কিন্তু দলবদলু নেতারা সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ‘অপারেশন’ শুরু করে দিয়েছেন। রাজ্য কমিটির এক নেতার দাবি, ভিনদল কিংবা ভিন্ন পেশা থেকে হঠাৎ করে আসা কিছু নেতা পার্টির ক্ষতি করছে। কৌশলে তাঁরা নিশ্চিত করতে চাইছেন, তৃণমূলের শক্তগড়ে দিলীপ ঘোষকে প্রার্থী করা হোক। এমনকি ভবানীপুর থেকে লড়াই করানোর ‘ছক’ও কষা হচ্ছে। সেই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসাল-ভুপেন্দ্র যাদবদের সঙ্গে একাধিক ‘সিটিং’ হয়েছে ওই দলবদলুদের।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে বিপুল সমর্থন নিয়ে মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার জয়লাভ করেছিলেন দলের প্রাক্তন এই সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি। তারপর পাঁচবছর এই এলাকায় ধারাবাহিক কাজ করেছেন। কিন্তু ২০২৪ সালে আচমকাই তাঁকে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়। হেরে যান সঙ্ঘের এই প্রাক্তন প্রচারক। সেবারও শেষ মুহূর্তে দিলীপবাবুর কেন্দ্র বদলে কলকাঠি নেড়েছিল কয়েকজন দলবদলু। পরবর্তী সময়ে যা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। অভিমানে দলের সঙ্গে দূরত্বও তৈরি হয়। তারপর রিঙ্কু মজুমদারের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সস্ত্রীক দীঘায় জগন্নাথ দেবের মন্দির উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে পার্টির মধ্যে সমালোচিত হন। এরপর সুকান্ত মজুমদার জমানার অবসান হয়। শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি হয়ে আসার পর পুরানো নেতাদের পার্টির সামনের সারিতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়। শেষমেশ অমিত শাহের অনুরোধে বর্তমানে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা নিয়ে বাংলা চষে বেড়াচ্ছেন দিলীপ ঘোষ। সেই মুহূর্তে দলের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। বিষয়টি তাঁর কানেও গিয়েছে। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি জানিয়েছেন, ওরা ওদের কাজ করুক। আমি যতদিন রাজনীতিতে থাকব, মানুষের কাজ করার চেষ্টা করব।