Bartaman Logo
২২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কর্মী সংকটে দীঘার সরকারি রাষ্ট্রীয় কাজুবাদাম উদ্যান

দীঘার রাষ্ট্রীয় কাজুবাদাম উদ্যান কর্মী সংকটে ভুগছে, শূন্য পদে সমস্যা। কৃষি শ্রমিকের অভাবে কাজ ব্যাহত। বিস্তারিত পড়ুন।

কর্মী সংকটে দীঘার সরকারি রাষ্ট্রীয় কাজুবাদাম উদ্যান
  • ২২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: কর্মী সংকটে ভুগছে দীঘার সরকারি রাষ্ট্রীয় কাজুবাদাম উদ্যান। এখানে দীর্ঘদিন ধরেই অনেকগুলি পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে একজন অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক, একজন কৃষি শ্রমিক, একজন পিওন এবং তিনজন চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তারক্ষীকে দিয়েই চলছে এই কাজু উদ্যান। পর্যাপ্ত কর্মীর অভাবে এই উদ্যানের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে স্বীকার করে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বেশ কয়েক বছর ধরে এই কর্মী সংকট চলে আসছে। উদ্যানপালন দপ্তরের পরিচালনায় এই কাজু উদ্যানটি চলে। অবিলম্বে সমস্যা নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে কাজুবাদাম উদ্যানে কর্মী নিয়োগ করার দাবি উঠেছে। দীঘা-ওড়িশা বর্ডারের ঠিক কাছেই মূল রাস্তার পাশে দীঘার রতনপুর মৌজায় ৬.৮ একর সরকারি জায়গার উপর বিশাল এলাকাজুড়ে এই কাজু উদ্যানটি রয়েছে। এখানে কয়েকশো কাজুবাদামের গাছ রয়েছে। উদ্যানে উৎপাদিত কাঁচা কাজু কাঁথির বিভিন্ন কাজু প্রসেসিং সেন্টারে নিলামের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। উৎপাদিত কাঁচা কাজু বিক্রির মধ্য দিয়ে সরকারের নির্দিষ্ট আয়ও হয়। এখানে কাজুবাদাম চাষের পদ্ধতি নিয়ে নানা সময়ে সরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দীঘায় বেড়াতে আসা পর্যটকরা এই কাজু উদ্যানে আসেন এবং ঘুরে দেখেন। তেমনি বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের পড়ুয়ারা এখানে এসে অনেককিছু জানতে ও শিখতে পারেন। সংশ্লিষ্ট গবেষকরাও সমৃদ্ধ হন। কাজু উদ্যান পরিচালনার ক্ষেত্রে অন্যতম ভূমিকা রয়েছে কৃষি শ্রমিকদের। কাজু বাগান দেখাশোনা ও পরিচর্যা করা, কাজু চারা তৈরি করা, সার-ওষুধ দেওয়া, উৎপাদিত কাজু সংগ্রহ করা, প্যাকেজিং সহ বিভিন্ন কাজ করে থাকেন কৃষি শ্রমিকরা। কিন্তু এখানে পর্যাপ্ত কৃষি শ্রমিক না থাকার কারণে সেই কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে স্বীকার করে নিয়েছে উদ্যান কর্তৃপক্ষ। গোটা কাজ সামলানোর জন্য অন্তত ছ’জন কৃষি শ্রমিক থাকার কথা। আগে ছ’জনই ছিলেন। একে একে কর্মীরা অবসর নেওয়ায় সেই জায়গায় কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র একজন। তাঁরাই কোনোরকমে কাজ সামাল দিচ্ছেন। যিনি গ্রুপ-ডি কর্মী অর্থাৎ পিওনের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁকেও অনেক সময় সব কাজে হাত লাগাতে হয়। 

Advertisement

অন্যদিকে, এছাড়া আপার ডিভিশন ক্লার্ক ও লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক অবসর নেওয়ার জন্য দু’টি পদও দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। এর ফলে অফিসিয়াল নানা কাজকর্ম সম্পন্ন করতে সমস্যা হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক দেবাশিস মান্নাকে সেই কাজ সামলাতে হচ্ছে। তিনি হলদিয়ার দায়িত্বে রয়েছেন। এক্ষেত্রে তাঁর কাছে অতিরিক্ত চাপ হয়ে যাচ্ছে। জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, কর্মী সংকটের কারণে সমস্যা হচ্ছে ঠিকই। তবে, আমরা কোনোরকমে সামলে নিচ্ছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ