Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মন্দির খোলার পরই উপচে পড়ল ভিড়, মে দিবসের ছুটিতে প্রভু-দর্শনে আগ্রহ

মন্দির খোলার পরই উপচে পড়ল ভিড়, মে দিবসের ছুটিতে প্রভু-দর্শনে আগ্রহ
  • ১ মে, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, দীঘা: সপ্তাহান্তে এমনিতেই দীঘায় ভিড় থাকে যথেষ্ট। সমুদ্র সৈকতের চিরন্তন টানের সঙ্গেই এবার বাড়তি আকর্ষণ জগন্নাথ মন্দির দর্শন। আজ, বৃহস্পতিবার মে দিবসের ছুটিকে তাই হাতছাড়া করতে চান না অনেকেই। বুধবার বিকেলের পর থেকেই ভিড় যেন আছড়ে পড়ল দীঘায়। মন্দির উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে দু’দিন প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ছিল এলাকায়। বুধবার বিকেলে মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটনের পর আর আটকে রাখা গেল না পর্যটকদের। কাতারে কাতারে মানুষ ভিড় জমালেন মন্দির চত্বরে। তাই দেখে হাসি ফুটল টোটো চালক থেকে শুরু করে হোটেল মালিকদের মুখে। 

Advertisement

জলেশ্বরের বাসিন্দা তপন পরিদা এবং তাঁর স্ত্রী ফুলেশ্বরী পরিদার প্রাথমিক ইচ্ছা ছিল, তাঁরা এই ছুটিতে পুরী যাবেন। কিন্তু প্ল্যান বদলে তাঁরা চলে আসেন দীঘার নতুন তীর্থক্ষেত্রে। তাঁদের কথায়, জলেশ্বর ওড়িশার অংশ হলেও সেখান থেকে পুরীর যা দূরত্ব, তার থেকে অনেক কম সময়ে দীঘা আসা যায়। তাই আমরা মহাপ্রভুর দর্শনে নতুন ঠিকানাতেই এলাম। উদ্বোধনের সময় আমাদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি ছিল না। কিন্তু সেসব পর্ব মিটতেই চোখ ও মন ভরে প্রভুকে দর্শন করেছি। বারাকপুর থেকে এসেছিলেন দেবদ্যুতি দত্ত, তাঁর স্ত্রী প্রিয়া দত্ত এবং চার বছরের সন্তান দীপ্ত। বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত দেবদ্যুতিবাবু জানালেন, চারদিনের ছুটিতে তাঁরা মন্দারমণিতে আসবেন বলে ঠিক করেছিলেন। কিন্তু ভ্রমণসূচিতে একটু অদলবদল করেছেন। বুধবার তাঁরা এসে পৌঁছেছেন দীঘায়। বৃহস্পতিবার জগন্নাথ দর্শনের পর তাঁরা মন্দারমণি চলে যাবেন।
পর্যটকদের আনাগোনা অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় খুশি হোটেল মালিকরাও। এখানকার হোটেল সংগঠনের কর্তা বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, এলাকার সবক’টি হোটেলেই ‘ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই’ পরিস্থিতি। মনে হচ্ছে, মন্দির খোলা মাত্রই প্রভুর কৃপা বর্ষিত হচ্ছে সর্বত্র। আমাদের আনন্দের সীমা নেই। 
এদিন মন্দিরকে কেন্দ্র করে ভিড় এতই বাড়ে যে, পুলিসকে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। সরাসরি মন্দির লাগোয়া এলাকায় আসতে পারেনি গাড়ি। তাতে অবশ্য কারও কোনও বিরক্তি নজরে পড়েনি। হাসিমুখেই ভিড় ঠেলে মন্দিরমুখো হয়েছেন সাধারণ পর্যটক ও ভক্তরা। স্থানীয় বাসিন্দা এবং পেশায় টোটোচালক স্বপন অধিকারীর কথায়, গত দু’দিন ধরে পর্যটক আসেননি। কারণ, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ছিল সর্বত্র। তাতে কিছুটা লোকসান হয়েছিল। কিন্তু এখন যেভাবে দীঘা স্টেশন থেকে কাতারে কাতারে মানুষ মন্দিরের দিকে আসছেন, তাতে দু’দিনের ক্ষতি অনেক আগেই পুষিয়ে গিয়েছে। 
মন্দির দর্শনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের একই রকম উৎসাহ ছিল জগন্নাথদেবের মাসির বাড়ি দেখার। স্টেট জেনারেল হাসপাতালের কাছে পুরনো মন্দিরকে মাসির বাড়ি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেই বাড়ি পর্যন্ত মানুষ হেঁটে এসে দেখে গিয়েছেন। নতুন তীর্থক্ষেত্র নিয়ে পর্যটকদের অফুরান উৎসাহ দেখে উৎফুল্ল পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা।

সম্পর্কিত সংবাদ