সংবাদদাতা, কাঁথি: দীঘায় পর্যটকদের থেকে নির্দিষ্ট ঘরভাড়ার বেশি নিলে সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষকে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হবে। গত সোমবার সন্ধ্যায় নিউ দীঘা হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের এক সভায় হোটেল-লজ মালিকদের প্রশাসনের তরফে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হোটেল-লজগুলিতে দমকল বিভাগের নিয়ম মেনে রাখতে হবে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। ট্যুরিস্ট সিভিক অ্যামিনিটি চার্জ(টিসিএসি)বা পর্যটক পরিষেবা কর নেওয়ার পর নিয়ম নেমে দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের(ডিএসডিএ)কাছে তা জমা দিতে হবে। প্রশাসনের ‘স্বাগত’ পোর্টালে দ্রুত আপলোড করতে হবে কর দেওয়ার যাবতীয় তথ্য। ওইদিনের সভায় পর্যটকদের ভালো পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার কথাও হোটেল মালিকদের স্মরণ করিয়ে দেন জনপ্রতিনিধিরা। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা। ছিলেন হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারাও।
জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর দীঘার হোটেল-লজের ঘরভাড়া কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর স্বয়ংমুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপরই জেলা প্রশাসন হোটেল-লজ মালিক সংগঠনগুলিকে নিয়ে বৈঠক করে। সোমবারের বৈঠকেওবলা হয়েছে, হোটেল-লজগুলিতে ডিসপ্লে বোর্ডে ঘরভাড়ার তালিকা বাধ্যতামূলকভাবে টাঙাতে হবে। প্রশাসন নির্দেশিত সব নিয়ম মানতে হবে। শুধু তাই নয়, হোটেল মালিকরা তাৎক্ষণিক সমস্যা বা অভিযোগ যাতে সংগঠনের কাছে সহজে জানাতে পারেন, তার জন্য নিউ দীঘা হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে একটি নম্বর দেওয়া হয়েছে। সেটি হল ০৩২২০-২৬৪১০০।
এই সভায় আরও বলা হয়, হোটেল-লজের বর্জ্য কোনওভাবেই রাস্তার নালা-নর্দমায় ফেলা যাবে না। প্রতিদিন ডিএসডিএ-এর বর্জ্যবাহী গাড়ি আসবে। তাতেই বর্জ্য ফেলতে হবে। দীঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুশান্ত পাত্র, নিউ দীঘা হোটেল মালিক সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক ও রামনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি অম্বিকাচরণ জানা বলেন, এই বৈঠক থেকে প্রতিটি হোটেল-লজব্যবসায়ীকেই সমস্ত নিয়ম মেনে চলতে বলা হয়েছে। আমরা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলব।