


নয়াদিল্লি: বৈদ্যুতিক গোলযোগেই কি আমেদাবাদে ভেঙে পড়া বিমানের ফুয়েল সুইচ ‘রান’ থেকে ‘কাট অফ’ মোডে চলে গিয়েছিল? দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের বিভিন্ন অংশ এখনও পরীক্ষা করে দেখছেন তদন্তকারীরা। আর সেই পরীক্ষা করতে গিয়েই বৈদ্যুতিক গোলযোগ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন দানা বেঁধেছে তদন্তকারীদের মনে। তাঁদের মতে, টেক অফের সময় যদি বিমানের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত সেন্সরগুলির ভুল তথ্য দেওয়া অসম্ভব নয়। আর তার ফলে বিমানের কন্ট্রোল ইউনিট স্বয়ংক্রিয় হয়ে জ্বালানি সরবরাহ ‘কাট অফ’ করে দিতে পারে। তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে দুই পাইলটের যে কথোপকথন প্রকাশ্যে এসেছে, তাতেও দেখা যাচ্ছে ফুয়েল সুইচ কেন ‘কাট অফ’ হল তা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন এক পাইলট। গত ১২ জুন কী কারণে টেক অফের মাত্র ২৬ সেকেন্ডের মধ্যেই বোয়িংয়ের ড্রিমলাইনার বিমানটির দুটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তা খুঁজে বের করাই এখন লক্ষ্য তদন্তকারীদের। আর এই রহস্যের চাবিকাঠি খুঁজতে তাঁরা এখন নজর দিয়েছেন বিমানের লেজ বা টেল সেগমেন্টে। আর তারপরেই একাধিক নতুন তথ্য উঠে এসেছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিমানের পিছনের অংশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র থাকে। এর মধ্যে অন্যতম রিয়ার ফ্লাইট রেকর্ডার বা ব্ল্যাকবক্স, এক্সিলিয়ারি পাওয়ার ইউনিট (এপিইউ), ট্রান্সডিউসার্স ও রাডার্স। এপিইউ সহ অন্যান্য যন্ত্র প্রায় অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেলেও দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের পিছনের ফ্লাইট রেকর্ডার অস্বাভাবিকভাবে পুড়ে যাওয়ায় এখনও তা থেকে তথ্য পাওয়া যায়নি। আর এটিই ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। ড্রিমলাইনের সামনের অংশ ভেঙে পড়ার পর পুড়ে কার্যত ছাই হয়ে গেলেও, টেল সেগমেন্ট আলাদা হয়ে বি জে মেডিক্যাল কলেজের হস্টেল ভবনে আটকে যাওয়ায় প্রায় ‘অক্ষত’ ছিল। তদন্তকারীরা পরীক্ষা করে টেল সেগমেন্টে বৈদ্যুতিক গোলযোগে আগুন লাগার প্রমাণ পেয়েছেন। দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র যাত্রী বিশ্বাসকুমার রমেশও জানিয়েছিলেন, টেক অফের পরই বিমানের ভিতরের আলোগুলি জ্বলতে নিভতে শুরু করে। বিদ্যুত্ সংযোগের গোলমাল হলেই এমনটা হয়ে থাকে। তাই ওই যাত্রীর বয়ানকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
১২ জুন দুর্ঘটনার পরদিন হস্টেলের ছাদ থেকে পিছনের ব্ল্যাকবক্সটি উদ্ধার হয়। ভারতের এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, ওই ব্ল্যাক বক্স থেকে সাধারণ প্রক্রিয়ায় তথ্য ডাউনলোড করা সম্ভব হয়নি। সেটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অথচ বিমানের সামনে যে ফ্লাইট রেকর্ডার থাকে, সেটি ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া গেলেও তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ফ্লাইট রেকর্ডারগুলি এমনভাবেই বানানো হয় যে, প্রচণ্ড তাপ বা আঘাতেও সেগুলির ক্ষতি হয় না। তাই সেটি কী কারণে এমনভাবে পুড়ে গেল, তা নিয়ে তদন্তকারীদের মনেও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, দুর্ঘটনার পর ওই ভবনটি ব্যাপক ক্ষতি হলেও কোথাও আগুন লাগেনি। তদন্তকারীরা অবশ্য জানিয়েছেন, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে সমস্যা হয়েছিল কি না, তা খুঁজে বের করা খুবই কঠিন কাজ। ওই ড্রিমলাইনারটি দিল্লি থেকে আমেদাবাদে আসার পর পাইলট লগবুকে লিখেছিলেন, ট্রান্সডিউসার্সে সমস্যা রয়েছে। কিন্তু লন্ডন রওনা হওয়ার আগে ইঞ্জিনিয়াররা ওই সমস্যা মিটিয়ে ফেলেছিলেন বলে জানিয়েছেন। বিমানের লেজে যে আগুন লাগার চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে, তা টেক অফের সময় নাকি দুর্ঘটনার পর লেগেছিল, তা জানা গেলেই এই রহস্য অনেকটা পরিষ্কার হবে।