নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আইএসএলে পা রেখেছে ডায়মন্ডহারবার এফসি। মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্লাব হিসাবেই পরিচিত ক্লাবটি। ধূমকেতুর গতিতে উত্থান। সরকার বদলের পর অনেকেই ডায়মন্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান। তবে ক্লাব সূত্রের খবর, এখনই মালিকানা বদলের ভাবনা নেই। বরং স্পনসরদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাদের ধরে রাখতে পারলে চিন্তা কমবে অনেকটাই। ঘরোয়া লিগে গতবারের স্কোয়াড ধরেই এগচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে জাঁকজমক, গ্ল্যামার কম অনেকটাই। তবে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, ডায়মন্ডহারবার বড় জাহাজ। চট করে ডুববে না। আপাতত প্র্যাকটিস মাঠের সন্ধান করছে তারা।
আগামী ২৫ জুন ঘরোয়া লিগ শুরু। বল গড়ানোর আগেই প্রিমিয়ার লিগের একাধিক ক্লাবের অবস্থা অবশ্য শোচনীয়। প্র্যাকটিস দূরের কথা, দল গড়তেই হিমশিম কর্তারা। কোনোরকমে অবনমন বাঁচলেই স্বস্তি পাবেন তারা। শ্রীভূমি স্পোর্টিং প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর ক্লাব হিসাবেই পরিচিত। আইএফএ’র বর্তমান সহসচিব রাকেশ ঝা দীর্ঘদিন ধরেই শ্রীভূমির দেখভাল করেন। গত মরশুমে কোচ ছিলেন প্রাক্তন ফুটবলার গৌতম ঘোষ। সল্টলেক, বিধাননগরের একাধিক মাঠে অনুশীলন করত দল। কিন্তু রাজ্যে সরকার বদলের পর রমরমা উধাও। এক ধাক্কায় বাজেট কমেছে অনেকটাই। বেশ কিছু সিনিয়র ফুটবলারকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। নমো নমো করে দল গড়ার ভাবনায় ম্যানেজমেন্ট। অতীতে মহিলা লিগেও নজরকাড়া দল গড়েছিল শ্রীভূমি। কিন্তু অবনমনের পর সেই দলের ভবিষ্যৎও অন্ধকার।
সুরুচি সংঘেরও একই দশা। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসই দলের সর্বময় কর্তা। কিন্তু টিম চালাতে জেরবার ম্যানেজমেন্ট। এমনকি প্র্যাকটিসও বন্ধ। রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে একাধিক ক্লাবে তালা দিয়েছে প্রশাসন। মাথায় হাত সুরুচি কর্তাদের। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, প্র্যাকটিসের মাঠই পাচ্ছেন না তাঁরা। ভিনরাজ্যের বেশ কিছু ফুটবলারকে সই করানোর ভাবনা ছিল। আপতত সবকিছুই শিকেয়। অভিজ্ঞ ফুটবলার তন্ময় ঘোষ মোহন বাগানে সই করেছেন। বাকিরা দল ছাড়তে পারলে বাঁচেন। টিমটিম করে চলছে মহিলা দল।
কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্সও ধুঁকছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুন ব্যানার্জির ক্লাব হিসাবে পরিচিত কালীঘাট এসএল। রবীন্দ্র সরোবরে তাদের ক্লাবে আগেই তালা ঝুলেছে। ফান্ডের হালও তলানিতে। টাকার অংক শুনে মুখ ঘোরাচ্ছেন ফুটবলাররা।
কালীঘাট এমএস কর্তা অজিত ব্যানার্জিও প্রবল সমস্যায়। রবীন্দ্র সরোবরে তাঁর ক্লাবও বন্ধ। প্র্যাকটিসের উপায় নেই। শত অনুরোধেও চিঁড়ে ভেজেনি। প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে মদনপুরে কোনোরকমে শুরু হয়েছে অনুশীলন। কিন্তু তা কীভাবে চলবে তা ভেবে পাচ্ছেন না অভিজ্ঞ কর্তা।