সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রাজনীতির ময়দানে লড়াই যতই তীব্র হোক না কেন, তার জন্য ব্যক্তিগত সম্পর্কে যে প্রভাব পড়া উচিত নয়, তা দেখিয়ে দিলেন বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা। সোমবার হঠাৎই রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্রের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে এসে তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করে হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দেন ধ্রুব সাহা। আশিসবাবুও সস্নেহে তাঁর হাত জড়িয়ে ধরেন। মিষ্টিমুখের পাশাপাশি মোবাইল নম্বর দেওয়া নেওয়া হয়। ধ্রুববাবু রামপুরহাটের উন্নয়নে আশিসবাবুর সহযোগিতা প্রার্থনা করেন। আশিসবাবু তাতে ইতিবাচক সাড়া দেন। ভোটের উত্তাপ ও তিক্ততা ভুলে সাধারণ মানুষের স্বার্থে এই মেলবন্ধন এক চমৎকার পরিবেশ তৈরি করল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নির্বাচনের পালা শেষ হয়েছে। এবার এলাকার উন্নয়নের পালা। সেই লক্ষ্যেই এদিন দলীয় নেতৃত্বকে নিয়ে আশিসবাবুর বাড়িতে পুস্পস্তবক ও মিষ্টির প্যাকেট হাতে হাজির হন ধ্রুব সাহা। সম্পর্কে আশিসবাবু বিজেপি বিধায়কের মাস্টারমশাই। রামপুরহাট কলেজে পড়াশোনা করেছেন ধ্রুববাবু। এই কলেজেই অধ্যাপনা করতেন আশিসবাবু। তাই শিক্ষক সম্বোধন করে আশিসবাবুর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন ধ্রুববাবু। রাজনীতিতেও নিজেকে আশিসবাবুর ছাত্র বলে স্বীকার করে রামপুরহাটের উন্নয়নে দিগনির্দেশ চান। আশিসবাবু তাঁর হাত ধরে বলেন, নিশ্চয়ই। এরপর একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রাক্তন এবং নবনির্বাচিত বিধায়ক একান্তে বেশ কিছুক্ষণ কথাবার্তাও বলেন। পরে ধ্রুব সাহা বলেন, আমি আশিসবাবুর ছাত্র। ২৫ বছর উনি বিধায়ক ছিলেন। অনেক অভিজ্ঞতা। আমি বিধায়ক হিসাবে নতুন। অনেক কিছু শেখার ও জানার আছে। তাই স্যারের সঙ্গে দেখা করে কী করলে ভালো হয়, সেটা জানতে এসেছিলাম। আগামীদিনে স্যারের মতামত নিতে হবে। বিকশিত রামপুরহাট করতে চাই। মোদিজি বলেছেন, ‘সব কা সাথ, সব কা বিকাশ ও সব কা বিশ্বাস’। তারপর উনি একটি লাইন জুড়ে বলেছেন, সব কা প্রয়াস। তাই স্যারেরও প্রয়াস দরকার। আমি জিতেছি ঠিকই। স্যার একটু কম ভোট পেয়েছেন। কিন্তু রামপুরহাটের উন্নয়নে আমরা দুজনেই দায়বদ্ধ। একসঙ্গে কাজ করতে চাই। তাই বলেছি, পুরসভা বা পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসার আবহ তৈরি হয়েছিল তা অনভিপ্রেত। তবে আমরা সেটা করব না। সকল রাজনৈতিক দল প্রার্থী দেবে। তারপর মানুষ যাকে বেছে নেওয়ার নেবে। অন্যদিকে আশিসবাবু বলেন, উন্নয়ন নিয়েই নতুন বিধায়কের সঙ্গে কথা হয়েছে। ফোন নম্বর দেওয়া নেওয়া হয়েছে। যেখানে আমার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে উনি মনে করবেন, সেক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব।