নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: আর ক’দিন মাত্র বাদেই উচ্চ মাধ্যমিক। এখন প্রায় সব পরীক্ষার্থী ঘাড় গুঁজে পড়াশোনা করছে। তবে সারাদিন ধরে পড়ার কোনও উপায় নেই মন্দিরার। সংসার চালাতে ঘুরে ঘুরে ধূপ বিক্রি করতে হয় তাকে।
Advertisement
মন্দিরা সিংহ থাকে বারাসত পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বনমালিপুরে। তার বাবা সাহেব সিংহ বারাসতে লটারির টিকিট বিক্রি করেন। মা পাপিয়া গৃহবধূ। ভাই চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। মন্দিরা প্রিয়নাথ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। ওদের নিজেদের একটি বাড়ি আছে। সেটির প্রায় ভেঙে পড়ার দশা। নুন আনতে পান্তা ফুরনোর সংসারে খুব কষ্ট করে মেয়েকে পড়িয়েছেন সাহেব সিংহ। মেয়ে তাঁর মান রেখেছে। মাধ্যমিকে ৪৩৭ নম্বর পেয়ে প্রথম ডিভিশনে পাস করেছে।
রাস্তায় ঘুরে লটারির টিকিট বিক্রি করে আয় বেশি হয় না। সে টাকায় চারজনের মুখে খাবার তুলে দেওয়া খুব কঠিন। এদিকে মন্দিরার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা বেশি দূরে নয়। সে পড়ার খরচও বেশি। বাবার পক্ষে সংসার সামাল দিয়ে টিউশনের ও পড়াশোনার খরচ টানা সম্ভব নয়। পরিশ্রমী মন্দিরা তাই সংসারের কারণে শুরু করলেন ঘুরে ঘুরে ধূপকাঠি বিক্রি। বারাসতে প্রচুর চেনা মানুষ। সংকোচ হয়। তাই ও যায় হাবড়া, দত্তপুকুর, মছলন্দপুর, নিউ বারাকপুর, বিরাটি। সেখানে ধূপ বিক্রি করে।
সকালে উঠে কিছু সময় পড়াশোনা। তারপর স্নান করে খেয়ে ধূপের প্যাকেট ভর্তি ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়া। বিকেল পর্যন্ত হকারি। সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফিরে পড়তে বসা। একবছর ধরে এই মন্দিরার রুটিন। সে তিনজন শিক্ষকের কাছে উচ্চ মাধ্যমিকের টিউশন পড়ে। এ জন্য মাসে দু’হাজার ৩০০ টাকা খরচ হয়। গৃহশিক্ষকদের টাকা ধূপ বিক্রির রোজগার থেকেই দেয় মন্দিরা। তারপরও কিছু হাতে থাকে। তা দিয়ে নিজের শখ মেটায় না। বাড়তি টাকাটা তুলে দেয় বাবার হাতে। সংসারের কাজে লাগে তা। ভাইয়ের পড়াশোনার জন্যও খরচ হয়। দিনকয়েক আগে মছলন্দপুর বাজারে ধূপ বিক্রি করছিল। অল্পবয়সি একটি মেয়েকে ফেরি করতে দেখে অবাক হয়েছিলেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। তাঁরা আলাপ করেন। মেয়েটির জীবনের গল্প শোনেন। তারপর সুজিত সাহা, বিশ্বজিৎ কুণ্ডু নামে স্থানীয়রা সেখানকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে চাঁদা তুলে পড়াশোনায় সাহায্য করতে ১০ হাজার তুলে টাকা দেন মন্দিরার হাতে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাথীটি বলে, ‘স্কুল বন্ধ থাকলে আমি ধুনো আর ধূপ বিক্রি করি। মশা মারার ধূপও বিক্রি করি। কলেজে পড়তে চাই। সংসারের জন্য আমার চাকরির দরকার। তাই লড়াই করেই চলেছি।’ প্রবল পরিশ্রমী কিশোরীটি উচ্চ মাধ্যমিকে ৭০ শতাংশের বেশি নম্বর পেতে রাত জেগে পড়াশোনা করছে এখন। তার মা পাপিয়াদেবী বলেন, ‘মেয়ে পড়াশোনা করছে মন দিয়েই। যেদিন প্রাইভেট টিউশনির চাপ থাকে, সে দিন যায় না ধূপ বিক্রি করতে।’ প্রতিবেশীরা মন্দিরাকে অকুণ্ঠ আশীর্বাদ করে সফলতা কামনা করেন। কয়েকজন পেন ও জলের বোতল ইত্যাদি উপহারও দিয়েছেন। সবাই চান, আজীবন মাথা উঁচু থাক মন্দিরার। পরীক্ষায় কম করে ৮০ শতাংশ নম্বর পাক লড়াকু মেয়েটি।
রাস্তায় ঘুরে লটারির টিকিট বিক্রি করে আয় বেশি হয় না। সে টাকায় চারজনের মুখে খাবার তুলে দেওয়া খুব কঠিন। এদিকে মন্দিরার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা বেশি দূরে নয়। সে পড়ার খরচও বেশি। বাবার পক্ষে সংসার সামাল দিয়ে টিউশনের ও পড়াশোনার খরচ টানা সম্ভব নয়। পরিশ্রমী মন্দিরা তাই সংসারের কারণে শুরু করলেন ঘুরে ঘুরে ধূপকাঠি বিক্রি। বারাসতে প্রচুর চেনা মানুষ। সংকোচ হয়। তাই ও যায় হাবড়া, দত্তপুকুর, মছলন্দপুর, নিউ বারাকপুর, বিরাটি। সেখানে ধূপ বিক্রি করে।
সকালে উঠে কিছু সময় পড়াশোনা। তারপর স্নান করে খেয়ে ধূপের প্যাকেট ভর্তি ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়া। বিকেল পর্যন্ত হকারি। সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফিরে পড়তে বসা। একবছর ধরে এই মন্দিরার রুটিন। সে তিনজন শিক্ষকের কাছে উচ্চ মাধ্যমিকের টিউশন পড়ে। এ জন্য মাসে দু’হাজার ৩০০ টাকা খরচ হয়। গৃহশিক্ষকদের টাকা ধূপ বিক্রির রোজগার থেকেই দেয় মন্দিরা। তারপরও কিছু হাতে থাকে। তা দিয়ে নিজের শখ মেটায় না। বাড়তি টাকাটা তুলে দেয় বাবার হাতে। সংসারের কাজে লাগে তা। ভাইয়ের পড়াশোনার জন্যও খরচ হয়। দিনকয়েক আগে মছলন্দপুর বাজারে ধূপ বিক্রি করছিল। অল্পবয়সি একটি মেয়েকে ফেরি করতে দেখে অবাক হয়েছিলেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। তাঁরা আলাপ করেন। মেয়েটির জীবনের গল্প শোনেন। তারপর সুজিত সাহা, বিশ্বজিৎ কুণ্ডু নামে স্থানীয়রা সেখানকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে চাঁদা তুলে পড়াশোনায় সাহায্য করতে ১০ হাজার তুলে টাকা দেন মন্দিরার হাতে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাথীটি বলে, ‘স্কুল বন্ধ থাকলে আমি ধুনো আর ধূপ বিক্রি করি। মশা মারার ধূপও বিক্রি করি। কলেজে পড়তে চাই। সংসারের জন্য আমার চাকরির দরকার। তাই লড়াই করেই চলেছি।’ প্রবল পরিশ্রমী কিশোরীটি উচ্চ মাধ্যমিকে ৭০ শতাংশের বেশি নম্বর পেতে রাত জেগে পড়াশোনা করছে এখন। তার মা পাপিয়াদেবী বলেন, ‘মেয়ে পড়াশোনা করছে মন দিয়েই। যেদিন প্রাইভেট টিউশনির চাপ থাকে, সে দিন যায় না ধূপ বিক্রি করতে।’ প্রতিবেশীরা মন্দিরাকে অকুণ্ঠ আশীর্বাদ করে সফলতা কামনা করেন। কয়েকজন পেন ও জলের বোতল ইত্যাদি উপহারও দিয়েছেন। সবাই চান, আজীবন মাথা উঁচু থাক মন্দিরার। পরীক্ষায় কম করে ৮০ শতাংশ নম্বর পাক লড়াকু মেয়েটি।



