নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সবুজ কচুরিপানা। তাতে ফুটেছে বেগুনি রঙের ফুল। দূর থেকে দেখতে বেশ ভালোই লাগে। কিন্তু এই কচুরিপানা জলের গতিকে কার্যত থমকে দিয়েছে। তার জেরেই কৃষিকাজ বিপন্ন বহু গ্রামে। একাধিকবার পদ্মাখাল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ অবধি তা হয়নি। ফলে, ধ্বংসের মুখে বহু পুরনো এই খাল। ফলে মহাবিপদে বহু মানুষ। নদীকে কচুরিপানার হাত থেকে কীভাবে রক্ষা করা যাবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রশাসনের একটা বড় অংশ।
Advertisement
দেগঙ্গার কলসুর, চৌরাশি, বেড়াচাঁপা ১, আমুলিয়া ও সহায়-শ্বেতপুর পঞ্চায়েতের মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়ে পদ্মাখাল। এটি মিশেছে বিদ্যাধরী নদীতে। পদ্মাখাল এলাকায় পদ্মা নদী নামেই পরিচিত। এক সময় এই খালের উপর নির্ভর করেই চলত কৃষিকাজ। সেই পদ্মা এখন ভরে গিয়েছে পলি আর কচুরিপানায়। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের আগাছা আর আবর্জনায় থমকে গিয়েছে জলের স্রোত। ফলে নিকাশির জল বেরনোরও পথ পায় না। যেকারণে প্রতি বর্ষায় প্লাবিত হয় দেগঙ্গার বিভিন্ন গ্রাম। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একসময় পদ্মা খালে ভালো স্রোত ছিল। টলটল করত জল। এখন খালের পাড় দখল করে চলছে মাছ চাষ। কোথাও কোথাও মাটি ফেলে ভরাট করে মাথা তুলেছে বাড়ি। ফলে খালে আর জোয়ার-ভাটা হয় না। ১২০ ফুট চওড়া খাল কোথাও ২০, কোথাও ৩০ ফুট হয়ে গিয়েছে। এই পরিসর আবার চলে গিয়েছে কচুরিপানার দখলে। আমুলিয়ার বাসিন্দা সৌরভ দাঁ বলেন, ‘পদ্মা নদী আমাদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আগে এই নদীতে নৌকা চলত। এখন নৌকা তো দূরের কথা, জল বইতে পারে না। পুরো নদী নষ্ট হয়ে গিয়েছে। প্রশাসনের এ নিয়ে নজর দেওয়া উচিত। অন্যদিকে, সোহাই-শ্বেতপুরের ইয়াসিল খান বলেন, কয়েকশো বছর আগে যে কারণে এই খাল কাটা হয়েছিল, তা এখন আর কাজে লাগে না।’ খাল বিপন্ন হওয়ায় সমস্যায় কৃষকরা। গোটা খাল চলে গিয়েছে কচুরিপানার দখলে। এ নিয়ে জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ মফিদুল হক সাহাজি বলেন, এটা বাস্তব সমস্যা। শুধু দেগঙ্গা নয়, হাড়োয়ার মানুষও কৃষিকাজের জন্য এই খালের জল ব্যবহার করতেন। এখন খালে না হয় জোয়ার, না হয় ভাটা। বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। এ নিয়ে সেচদপ্তরের সঙ্গে কথা বলব। খাল সংস্কার নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপির নেতা তাপস মিত্র বলেন, শুনেছি কয়েক বছর আগে এই খাল সংস্কার করা হয়েছিল। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে, কীভাবে সংস্কারের কাজ হয়েছে! কেউ কেউ পদ্মাকে ব্যক্তি মালিকানায় পরিণত করেছে। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। তবে, পদ্মা ফের সংস্কার হবে, জোয়ার-ভাটা হবে, তারই অপেক্ষায় দিন গুনছেন হাজার হাজার মানুষ।



