সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবারে ভক্তদের ঢল নামল নদীয়ার দিগনগরের রাঘবেশ্বর শিবমন্দিরে। ভোর থেকেই ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনিতে গোটা মন্দির চত্বর ভক্তিময় পরিবেশে ভরে ওঠে। কয়েক শত পুণ্যার্থী দুধ, গঙ্গাজল, ফুল, বেলপাতা, ফলমূল, ধূপ, প্রদীপ ও অন্যান্য পূজার সামগ্রী নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মহাদেবের দর্শন ও জলাভিষেক করেন। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই মন্দিরটি নদীয়ার রাজা রাঘব রায়ের হাতে প্রতিষ্ঠিত। প্রায় পাঁচ শতাব্দীর পুরনো এই শিবমন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বাংলার স্থাপত্য ও শিল্প ঐতিহ্যেরও এক অনন্য নিদর্শন। শ্রাবণ মাসের প্রতিটি সোমবারের মতো এদিনও সকাল থেকেই ভক্তদের ভিড় ক্রমশ বাড়তে থাকে। ছেলে-মেয়ে, বৃদ্ধ, যুবক থেকে শুরু করে শিশুরাও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মন্দিরে এসে শিবের আরাধনায় অংশ নেন। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকেও মানত পূরণ করতেও ভক্তরা এখানে এসে পুজো দেন। ভক্তরা শিবলিঙ্গে দুধ ও গঙ্গাজল ঢালার পর মন্দির প্রদক্ষিণ করেন এবং পরিবারের সুখ-শান্তি ও মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন। সারাদিন ধরে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের আনাগোনা অব্যাহত থাকে। ঐতিহাসিক গুরুত্বের দিক থেকেও রাঘবেশ্বর মন্দির বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মন্দিরের মূল শিবলিঙ্গটি কষ্টিপাথরের তৈরি। চারচালা মন্দিরের গায়ে রয়েছে অসাধারণ টেরাকোটার সূক্ষ্ম কারুকাজ। ফলকে ফুটে উঠেছে তৎকালীন বাংলার সামাজিক জীবন, বিভিন্ন দেব-দেবীর রূপ, রামায়ণের নানা ঘটনা, বৃন্দাবনের লীলাকাহিনি। প্রতিটি টেরাকোটা ফলক যেন ইতিহাসের এক একটি জীবন্ত দলিল, যা আজও দর্শনার্থীদের বিস্মিত করে। মন্দিরের পুরোহিত রাজু মুখোপাধ্যায় বলেন, রাঘবেশ্বর মন্দির অনেক প্রাচীন একটি মন্দির, বহু দূর দূরান্ত থেকে লোক এখানে পুজা দিতে আসেন। শ্রাবণ মাসকে সামনে রেখে বিধায়কের থেকে অনুমতি নিয়ে মন্দিরে রং করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এবার মন্দিরের সংস্কার ও খুব প্রয়োজন। • নিজস্ব চিত্র



