


বার্মিংহাম: ব্রাইডন কার্সের লোপ্পা ক্যাচ হাতে জমা হতেই বল আকাশে ছুড়লেন শুভমান গিল। ছয় উইকেট নেওয়া আকাশদীপ তখন পাখির ডানার মতো দু’হাত মেলে দিয়েছেন শূন্যে। চলছে অভিনন্দনের পালা। পাশেই চলছে স্মারক হিসেবে স্টাম্প কুড়নোর প্রতিযোগিতা। স্বয়ং গিলই পথ দেখাচ্ছেন। তাঁকে আলিঙ্গন করলেন সহ-অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। ম্যাচে দশ উইকেট নেওয়ার খুশিতে আকাশদীপ ঝাঁকিয়েই চলেছেন মুষ্টিবদ্ধ হাত। আগেই চেয়ে নিয়েছেন ছয় উইকেট নেওয়ার বল। ততক্ষণে ড্রেসিং-রুম ছেড়ে প্রবল উচ্ছ্বাসে মাঠে ঢুকে পড়েছেন যশপ্রীত বুমরাহ, কুলদীপ যাদব। স্মরণীয় এই জয়ের মুহূর্তে কমেন্ট্রি বক্সে সুনীল গাভাসকর, রবি শাস্ত্রী, চেতেশ্বর পূজারাও আনন্দে আত্মহারা। অতীতের অজস্র হতাশায় মলমের প্রলেপ ৩৩৬ রানের এই জয়। পাঁচ টেস্টের সিরিজে ফিরল সমতা (১-১)। বৃহস্পতিবার লর্ডসে তৃতীয় টেস্ট শুরুর আগে অবধারিতভাবে শুভমান গিল ব্রিগেডকে মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা জোগাবে দাপুটে পারফরম্যান্স।
৬০৮ রানের অসম্ভব লক্ষ্য তাড়া করে শনিবারই তিন উইকেট খুইয়েছিল ইংল্যান্ড। একমাত্র প্রকৃতিই বাঁচাতে পারত হোমটিমকে। সকালে বৃষ্টির জন্য খেলা যখন ঘণ্টা দেড়েক নষ্ট হল, দুরু দুরু আশঙ্কা বাড়ছিল। তীরে এসে তরি ডুববে না তো! খেলা শুরু হওয়ার পরই আকাশদীপের জোড়া ধাক্কা অবশ্য উস্কে দিল জয়ের আশা। অলি পোপ বোল্ড হওয়ার পর এলবিডব্লু হ্যারি ব্রুক। ৮৩ রানে পাঁচ উইকেট, ইংল্যান্ড তখন ধুঁকছে। বাজবল উধাও, বেন স্টোকস ও জেমি স্মিথকে দেখা গেল রক্ষণাত্মক খোলসে। বেপরোয়া আক্রমণ নয়, টিকে থাকার জন্য মরিয়া তখন দু’জনে। ষষ্ঠ উইকেটের জুটিতে ধীরে ধীরে পঞ্চাশ উঠতেই ভারতীয় সমর্থকদের সঙ্গী ফের টেনশন। লাঞ্চের আগে এই জুটিটা ভাঙা জরুরি। ওয়াশিংটন সুন্দর সেটাই করলেন। রিভিউ নিয়েও এলবিডব্লু এড়াতে ব্যর্থ স্টোকস। প্রতিপক্ষ ক্যাপ্টেন ফিরতেই দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে যায়।
স্মিথ অবশ্য একক লড়াই জারি রেখেছিলেন। প্রথম ইনিংসে ১৮৪ রানের পর এদিনও টানছিলেন দলকে। শতরান নিশ্চিতই দেখাচ্ছিল। কিন্তু আকাশদীপ ফের হানলেন আঘাত। স্লোয়ার অফকাটারে টাইমিংয়ের গণ্ডগোলে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ারে ক্যাচ তুললেন স্মিথ। টেস্ট কেরিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট এল আকাশদীপের। তার আগেই অবশ্য প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার উইকেটখরা কেটেছে। ক্রিস ওকসকে ফিরিয়েছেন তিনি। ২২৬ রানে স্মিথ আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু কাউন্টডাউন। ইংল্যান্ড টানবে কতক্ষণ?
জস টংকে অবিশ্বাস্য ক্যাচে ফেরালেন মহম্মদ সিরাজ, যা ম্যাচে রবীন্দ্র জাদেজার একমাত্র উইকেট। ব্রাইডন কার্সের ধুমধাড়াক্কা অবশ্য আড়াইশোর ওপারে নিয়ে গেল স্কোর। শেষ আঘাতটা হানলেন আকাশদীপই। কার্সের লোপ্পা ক্যাচ জমা হল কভারে দাঁড়ানো গিলের হাতে। মুহূর্তে যা প্রতীকী হয়ে উঠল। ইংল্যান্ডকে সংহারের পর্ব শুরু হয়েছিল ক্যাপ্টেনের ব্যাটে। জয়লক্ষ্মী ধরা দিল তাঁর হাতেই।
দিলের মঞ্চে উজ্জ্বল ভূমিকা থাকল আকাশদীপেরও। প্রথম টেস্টে খেলেননি। এজবাস্টনে তিনিই দুমড়ে-মুচড়ে দিলেন বিপক্ষকে। ম্যাচে দশ উইকেট, বিলেতে ভারতীয় বোলারের মধ্যে চেতন শর্মা ছাড়া কারও যে কৃতিত্ব নেই। পাশাপাশি, সিরাজের অবদানও অবিস্মরণীয়। এই দুই পেসারের মিলিত সংগ্রহই ১৭ উইকেট। যশপ্রীত বুমরাহকে ড্রেসিং-রুমে বসিয়েই এল কুড়ি উইকেট। ঐতিহাসিক জয়ের দিনে এটাও কম বিস্ময়কর নয়!