Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তিন জেলায় চালু ডিটেনশন ক্যাম্প

নির্দেশিকা জারি হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার বাংলার তিন জেলায় চালু হয়ে গেল ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’, সরকারি ভাষ্যে যা ‘হোল্ডিং সেন্টার’।

তিন জেলায় চালু ডিটেনশন ক্যাম্প
  • ২৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: নির্দেশিকা জারি হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার বাংলার তিন জেলায় চালু হয়ে গেল ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’, সরকারি ভাষ্যে যা ‘হোল্ডিং সেন্টার’। এই পর্বে হোল্ডিং সেন্টার চালু হয়েছে মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়। আর প্রথমদিনেই তিন জেলার তিনটি হোল্ডিং সেন্টারে ঠাঁই হয়েছে ১৮ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর। সরকারি সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই বিএসএফের মাধ্যমে এই বাংলাদেশি নাগরিকদের ‘ডিপোর্ট’ (ফেরত পাঠানো) করা হবে। সূত্রটি জানিয়েছে, সরকারি নির্দেশনামা জারি হওয়ার পরই বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট, বনগাঁ, নদীয়া, উত্তর দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলায় হোল্ডিং সেন্টারের জন্য সরকারি ভবন খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি এবং মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে ‘থ্রি-ডি’ ফরমুলা প্রয়োগ করা হবে। ‘ডিটেক্ট’, ‘ডিপোর্ট’ এবং ‘ডিলিট’—এই নীতিতে চলবে সরকার। মেনে চলা হবে সিএএ। অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে যে সমস্ত ‘অ-মুসলিম’ এপারে এসেছেন, তাঁরা সবাই শরণার্থী। বাকি সবাই অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরে নিয়েই থ্রি-ডি তত্ত্ব প্রয়োগ করা হবে। তারই ফলস্বরূপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নির্দেশিত হোল্ডিং সেন্টার।   

Advertisement

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের লালগোলার সরকারি ‘পদ্মাভবনে’ চালু হয়েছে ডিটেনশন ক্যাম্প। অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ধৃত তিনজন বাংলাদেশি পুরুষকে রাখা হয়েছে সেখানে। এই তিনজন যথাক্রমে ভগবানগোলা, রানিতলা এবং লালগোলা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে এদেশে ঢুকেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। অপরদিকে, অনুপ্রবেশ এবং সরকারি জমি দখল করে বসবাসের দায়ে রবিবার রাতে মালদহের গাজোল থেকে একটি বাংলাদেশি পরিবারকে আটক করেছিল পুলিশ। বছর পাঁচেক আগে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি সীমান্ত দিয়ে পরিবারটি ভারতে প্রবেশ করে। বাংলাদেশি হিসাবে শনাক্ত হওয়ার পর ওই পরিবারের মোট ন’জন সদস্যকে ইংলিশবাজারের বাগবাড়ির হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশের ওই সূত্রটি জানিয়েছে, বাংলাদেশের রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার ইমনপুরের বাসিন্দা এই পরিবারে রয়েছে তিন জন মহিলা।   
এই পর্বেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সীমান্তবর্তী গঙ্গারামপুরের তেলিয়াকুড়ি গ্রাম থেকে দু’জন এবং কুশমণ্ডি ও বংশীহারি থেকে আরও দু’জনকে আটক করা হয়েছে। এরা সবাই বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার বাসিন্দা। এদের সবাইকে বালুরঘাটের হোল্ডিং সেন্টারে রাখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরা অবৈধভাবে ঢুকে এদেশে বসবাস করছিল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় করে আটক অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ