Bartaman Logo
১৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জৌলুস হারালেও, মাথাভাঙায় মদনমোহন বাড়ির রথযাত্রায় এখনও ভিড় করেন ভক্তরা

মাথাভাঙার মদনমোহন মন্দিরে রথযাত্রা হচ্ছে, তবে ভক্তদের ভিড় আগের মতো নেই। ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

জৌলুস হারালেও, মাথাভাঙায় মদনমোহন বাড়ির রথযাত্রায় এখনও ভিড় করেন ভক্তরা
  • ১৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ বর্মন, মাথাভাঙা: আগের মতো জৌলুস না থাকলেও নিয়ম মেনে রথযাত্রা হয় মাথাভাঙায়। শতাব্দী প্রাচীন মাথাভাঙা মদনমোহন বাড়ির রথ দেখতে এখনও ভিড় করেন ভক্তরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাথাভাঙা মদনমোহন বাড়ির মন্দির তৈরির সাত বছর পর শুরু হয়েছিল রথযাত্রা। করদমিত্র রাজ্য কোচবিহারের মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণের সময়কালে ১৯০৩ সালে মাথাভাঙার পূর্বপ্রান্তে তৈরি হয় মদনমোহন মন্দির। শহরের ইতিহাস নিয়ে চর্চাকারিদের দাবি, এর সাত বছর পর অর্থাৎ ১৯১০ সালে শুরু হয়েছিল রথযাত্রা। শুরুতে প্রান্তিক এই শহরে বাঁশের তৈরি রথেই মামা বাড়ি যেতেন কৃষ্ণ, বলরাম ও সুভদ্রা। মদনমোহন মন্দির থেকে রথ বেরিয়ে সোজা ইমিগ্রেশন রোড দিয়ে শনিমন্দির পর্যন্ত যেত। সেখানে সাতদিন থাকার পর উলটো রথে মন্দিরে ফিরতেন কৃষ্ণ, বলরাম ও সুভদ্রা।

Advertisement

নদীঘেরা শহর মাথাভাঙার শতাব্দী প্রাচীন মদনমোহন মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে ইতিহাসের নানা দিক। প্রজাবৎসল রাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণের সময়কালে শহরে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। মদনমোহন মন্দির রথযাত্রা চালুর পর পার্শ্ববর্তী জায়গায় টিনের চালের নাটমন্দির তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেখানেই গড়ে ওঠে আশুতোষ হলঘর। বর্তমানে কাঠের তৈরি সুদৃশ্য রথ মদনমোহন মন্দির থেকে বেরিয়ে চৌপথি পর্যন্ত আসে। সেখান থেকে ঘুরে মানসাই নদীর পাড় পর্যন্ত যায়। শহরের বাসিন্দারা জানান, সময়ের সঙ্গে রথের মেলার জৌলুস এখন আর আগের মতো নেই। কয়েক দশক আগেও গ্রাম থেকে প্রচুর মানুষ রথের মেলায় আসতেন। এখন রথের মেলার ভিড়ে গ্রামের মানুষ চোখে পড়ে না। বসে না হরেক রকম সামগ্রীর দোকান।
লেখক জয়ন্ত গুহ ঠাকুরতা বলেন, মদনমোহন মন্দির প্রতিষ্ঠার সাতবছর পর রথের মেলা শুরু হয়েছিল। প্রথমদিকে বাঁশের তৈরি রথেই কৃষ্ণ, বলরাম, সুভদ্রা মামার বাড়ি যেতেন। সেই সময়ে রথ শনিমন্দির এলাকা পর্যন্ত যেত। এনিয়ে আর কোনো প্রামাণ্য নথি নেই। ইতিহাসের গবেষক রাজর্ষি বিশ্বাস বলেন, মদনমোহন মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে অনেক কিছু পাওয়া যায়। রথযাত্রা নিয়ে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। লোকমুখে পাওয়া তথ্যই ভরসা। তবে রথের মেলার জৌলুস আগের মতো আর নেই। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ