মুম্বই সিটি- ১ : ইস্ট বেঙ্গল- ২
(ব্রেন্ডন) (ইউসেফ, নন্দ)
মুম্বই সিটি- ১ : ইস্ট বেঙ্গল- ২
(ব্রেন্ডন) (ইউসেফ, নন্দ)
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কুপারেজের কাঠের গ্যালারি জুড়ে হাজার হাজার মশাল। সাড়ে তিন দশক আগের রোভার্স কাপ ফাইনাল। আরব সাগরের পাড়ে লাল-হলুদ চকমকি জ্বালিয়েছিলেন কৃশানু, বিকাশরা। বাণিজ্য নগরীতে সেবার মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রাকে বশ মানিয়ে ইস্ট বেঙ্গলের ত্রিমুকুট জয় সাড়ে তিন দশক পরেও তৃপ্তি দেয় সমর্থকদের। আইএসএল জমানায় কুপারেজ এখন ব্রাত্য। তবে লাল-হলুদের লড়াই এখনও জারি রয়েছে। মঙ্গলবার ফুটবল এরিনায় পিছিয়ে পড়েও মুম্বই সিটিকে ২-১ গোলে হারাল মশালবাহিনী। ম্যাচ দেখে প্রাক্তন ফুটবলার মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের স্মৃতিচারণ, ‘সেই ত্রিমুকুট কেরিয়ারের অন্যতম সেরা। তবে এদিন সাউলদের জয় বাকি ম্যাচগুলির জন্য টার্নিং পয়েন্ট হতেই পারে। আসলে ফুটবলারদের তাগিদেই টেক্কা দিল ইস্ট বেঙ্গল।’ ১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে ইস্ট বেঙ্গল। বাকি ৩টি ম্যাচ জিতলেই প্রথমবার আইএসএল ট্রফি ঢুকে পড়বে লেসলি ক্লডিয়াস সরণিতে।
প্রথমার্ধের খেলা দেখে অতি বড় সমর্থকও উদ্বেগে ছিলেন। ওড়িশার বিরুদ্ধে জোড়া গোল ছিল ইউসেফের। ফর্মে থাকা স্ট্রাইকারকে বেঞ্চে রেখে বিবর্ণ সোয়বার্গকে খেলানো যুক্তিহীন। তিন ডিফেন্ডারের ফর্মেশনও খাবি খেল। মাঝমাঠে রশিদ ও সাউল দু’জনেই শ্লথ। ফলে মাঝমাঠে দাপট দেখালেন জনি কাউকোরাই। এদিন ৭ মিনিটেই লিড নেয় মুম্বই সিটি। আকাশ মিশ্রর লম্বা থ্রো ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ লাল-হলুদ রক্ষণ। বাঁ পায়ের ভলিতে জাল কাঁপান ব্রেন্ডন ফার্নান্ডেজ (১-০)। এক্ষেত্রে নিজের জায়গায় ছিলেন না গিল। মুম্বইয়ের পিটার ক্র্যাটকি বড় কোচ। তাঁর হোমওয়ার্ক তৈরি ছিল। লাল-হলুদের উইং ব্যাকের দুর্বলতা কাজে লাগাতে নৌফল ও ছাংতেকে ঘোরদৌড় করালেন। বন্যার জলের মতো আক্রমণ আছড়ে পড়ল লাল-হলুদ রক্ষণে। ছ’গজের বক্সে অরক্ষিত ব্রেন্ডন সিটার মিস করলেন। সুবিধানজক পরিস্থিতিতে বল রিসিভ করতে পারেননি ছাংতেও। ৩১ মিনিটে বিক্রমপ্রতাপের লব গিলকে টপকে বাইরে যায়। অন্যদিকে, তেমন সুযোগই পায়নি অস্কার ব্রিগেড। সোয়বার্গ বিশ্রাম নিলেন নুনো রেইসের ছায়ায়। তাঁকে ফাইনাল বল বাড়ানোর লোক নেই। প্লে-মেকার মিগুয়েলকে ডাগ-আউটে রেখেছিলেন অস্কার। দুই উইং হাফ বিষ্ণু ও বিপিনকে কড়া নজরে রাখলেন ভালপুইয়া ও আকাশ মিশ্র।
বিরতির পর একইসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন অস্কার। মিইয়ে থাকা সোয়বার্গ, রশিদ ও জেরির বদলে ইউসেফ, মিগুয়েল ও শৌভিককে নামিয়ে দিলেন স্প্যানিশ কোচ। ব্রাজিলিয়ান মিডিও নড়াচড়া করতেই খেলায় ফিরল ইস্ট বেঙ্গল। ৫৭ মিনিটে মিগুয়েলকে আটকাতে গিয়ে বক্সে ফাউল করলেন নুনো রেইস। পেনাল্টি থেকে জাল কাঁপাতে ভুল করেননি ইউসেফ (১-১)। চলতি টুর্নামেন্টে তাঁর দশম গোল। এরপর ৭০ মিনিটে নন্দর পালা। ডানদিক থেকে তাঁর জোরালো শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে ডিপ হয়ে জালে আছড়ে পড়ে (২-১)। ডার্বি হোক বা সুপার কাপ ফাইনাল-বড় মঞ্চে গোল করার অভ্যাস বজায় রাখলেন দক্ষিণী ফুটবলার। শেষদিকে মুম্বইয়ের চাপ দারুণভাবে সামাল দিলেন কেভিন, আনোয়াররা।