শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: রাজ্য সরকারের প্রাপ্য কোটি কোটি টাকার জিএসটি ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। অর্থদপ্তরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাওড়ার টিকিয়াপাড়া থেকে সিকান্দার খান নামে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করল ডিরেক্টরেট অব ইকনমিক অফেন্সেসের (ডিইও) অফিসাররা। একইসঙ্গে বাগুইআটি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ঋত্বিক শর্মা ও বরুণ ঝা নামে আরও দুই ব্যবসায়ীকে। ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট (আইটিসি) আদায় করার জন্য জাল ইনভয়েস তৈরি করে দিত তারা। গত ১০ বছরে এই দুই ‘শর্মা’ ১২১ কোটি টাকার ইনপুট ক্রেডিট ট্যাক্স জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানাচ্ছেন তদন্তকারীরা। এদের কাছে থেকে এমন ডজনখানেক ব্যবসায়ীর নাম মিলেছে, যাঁদের জাল আইটিসি সহ নানা নথি বানিয়ে দিত শর্মা-ঝা।
অর্থ দপ্তর অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখে একাধিক বেসরকারি কোম্পানি জিএসটি ফাঁকি দিচ্ছে। অথচ তারা ক্রেতাদের কাছ থেকে জিএসটি আদায় করেছে। এরফলে রাজ্যের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। উলটে বেশ কিছু কোম্পানি আবার ভুয়ো ইনভয়েস জমা করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে আইটিসি তুলে নিয়েছে। যে সমস্ত ভুয়ো নথি জমা দেওয়া হয়েছে তার কপি জোগাড় করে অর্থ দপ্তর। পাশাপাশি যারা জিএসটি ফাঁকি দিয়েছে তাদের তালিকা তৈরি করে। তার ভিত্তিতে টিকিয়াপাড়ার একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অর্থ দপ্তরের তরফে লিখিত অভিযোগ করা হয়। সেখানে প্রায় ১০ কোটি টাকা জিএসটি ফাঁকির অভিযোগ ছিল। পালাবদলের পর অর্থ দপ্তরের নির্দেশে এর তদন্তভার নেয় ডিইও। তারা সমস্ত নথি যাচাই করার পর টিকিয়াপাড়ায় ওই ব্যবসায়ীর ইউনিটে হানা দেয় বুধবার। সেখান থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয় বিপুল পরিমাণ গুড়াকু। উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নথি। গ্রেপ্তার করা হয় কারখানার মালিক সিকান্দার শেখকে।
একইসঙ্গে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ঘোলা থানা এলাকার মুড়াগাছা ও চিনার পার্ক এলাকায় ভুয়ো ইনভয়েস তৈরির অফিস খোলা হয়েছে। বহু ব্যবসায়ী এগুলি কিনছেন। এমনকি কমিশনের বিনিময়ে জিএসটি দপ্তরে নথি জমা দিয়ে আইটিসি তোলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এই অফিস থেকেই। তার ভিত্তিতেই দুটি জায়গায় তল্লাশি চালান ডিইওর অফিসাররা। বাজেয়াপ্ত করা হয় বিভিন্ন কোম্পানির ভুয়ো নথি। তা বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, এই অফিসে বসে কাগুজে কোম্পানি খোলা হত। তারপর এই কোম্পানিগুলির নামে ভুয়ো ইনভয়েস তৈরি চলত। এমনকি জাল প্যান, আধার পর্যন্ত তৈরি হচ্ছে। যার মাথায় রয়েছে বরুণ ঝা। মোটা টাকায় এই ইনভয়েস সহ বিভিন্ন নথি বিক্রি করা হত বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে। এরপরই বাগুইআটিতে বরুণের বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে ধরা হয়। গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার সহযোগী ঋত্বিক শর্মাকে। কাগুজে কোম্পানির নামে যে সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল, সেগুলির লেনদেন ফ্রিজ করা হয়েছে।