Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলায় ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত, আক্রান্ত ৯৫, উদ্বেগে স্বাস্থ্যদপ্তর

জেলায় ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত, আক্রান্ত ৯৫, উদ্বেগে স্বাস্থ্যদপ্তর
  • ২৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ভ্যাপসা গরমের মধ্যে কয়েক পশলা বৃষ্টিতে স্বস্তি মিলছে। তবে এই বৃষ্টির জলে জন্ম নিচ্ছে মশার লার্ভা। যা নিয়ে উদ্বেগে স্বাস্থ্যদপ্তর। ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদ জেলায় ৯৫জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্তের পরিসংখ্যান জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। যদিও অন্যান্য বছরের তুলনায় এই পরিসংখ্যান যথেষ্ট আশাপ্রদ বলে দাবি স্বাস্থ্যকর্তাদের। তবে প্রথম থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। প্রতি বছর মুর্শিদাবাদ জেলায় হাজার হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। ধারাবাহিকভাবে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। বাড়ির আশেপাশে যেতে জঞ্জাল না জমে এখন থেকেই সেদিকে সতর্ক থাকতে বলছেন চিকিৎসকরা। 

Advertisement

মুর্শিদাবাদ জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক(সিএমওএইচ) সন্দীপ সান্যাল বলেন, চলতি বছরের ১১০ দিনের বেশি অতিক্রান্ত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৫জন। অর্থাৎ দৈনিক গড় আক্রান্তের সংখ্যা একজনেরও কম। আমরা এখন থেকেই সতর্ক আছি। 
প্রতিবছর বর্ষার মরশুমে এই রোগ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। গোটা রাজ্যের মধ্যে আক্রান্তের পরিসংখ্যানে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রথম দিকেই থাকে। মশার প্রভাব কমাতে শুরু হয় অভিযান। এখন থেকেই পুরসভাগুলিকে সতর্ক করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। খুব তাড়াতাড়ি ছাড়া হবে গাপ্পি মাছ। বেশকিছু জায়গায় এখন থেকে আবার ছড়ানো হচ্ছে ব্লিচিং পাউডার। শুধু এইবারই নয়, প্রত্যেকবারই বর্ষার সময় জেলার সদর শহর ও শহরতলিতে মাথাচাড়া দেয় ডেঙ্গু। ডেঙ্গু রুখতে প্রতিটি ব্লককেও আগেভাগে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা না এলে এই মশাবাহিত রোগ কিছুতেই ঠেকানো সম্ভব নয় বলেই দাবি স্বাস্থ্যকর্তাদের। 
মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই প্রতিবছর হাজার খানেক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়। ইতিমধ্যে চিকিৎসকরা এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগেই সচেতনতার বার্তা দিচ্ছেন। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এডিস ইজিপ্টাই মশার কামড়ে এই ভাইরাস ছড়ায়। সাধারণত মশার কামড়ের ৩ থেকে ১৪দিন পর উপসর্গ দেখা দেয়। ডেঙ্গুর সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হল জ্বর। অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে বমিবমি ভাব, পেটে ব্যথা, ফুসকুড়ি, শরীরে ব্যথা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের যতটা সম্ভব বিশ্রাম নেওয়া উচিত এবং প্রচুর জল পান করা উচিত। জ্বর নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যথা উপশমের জন্য প্যারাসিটামল খেতে হবে। ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ দুই থেকে সাতদিন স্থায়ী হতে পারে। রোগীরা ক্লান্তি, অস্থিরতা এবং বিরক্তিও অনুভব করতে পারে। চিকিৎসকরা আরও বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শুরুতে ডেঙ্গুর কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে অনেকের শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে, ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণগুলি মশার কামড়ের চার থেকে দশদিন পরে দেখা দিতে শুরু করে। যার কারণে রক্ত পরীক্ষা করাতে হয়। এতে শরীরে প্লেটলেট কমতে শুরু করে এবং রক্তপাতের আশঙ্কা থাকে। তাই আগেভাগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ