Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ময়মনসিংহে ভাঙা শুরু উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি, ক্ষোভ, সংরক্ষণের আবেদন মমতার

বাংলাদেশে সত্যজিত্ রায়ের পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি ভেঙে ফেলা হল। ময়মনসিংহ শহরের হরিকিশোর রায় রোডে প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো ওই বাড়িটি অবস্থিত।

ময়মনসিংহে ভাঙা শুরু উপেন্দ্রকিশোর  রায়চৌধুরীর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি, ক্ষোভ, সংরক্ষণের আবেদন মমতার
  • ১৬ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

ঢাকা ও কলকাতা: বাংলাদেশে সত্যজিত্ রায়ের পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি ভেঙে ফেলা হল। ময়মনসিংহ শহরের হরিকিশোর রায় রোডে প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো ওই বাড়িটি অবস্থিত। স্থানীয় সাহিত্যিক মহলের দাবি, ওই বাড়িতে বসবাস করেছিলেন বাংলা শিশুসাহিত্যের পথিকৃত্ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। পরে বাড়িটি বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমির ময়মনসিংহ জেলা অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু সংস্কারের অভাবে বাড়িটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় শিশু অ্যাকাডেমিও তাদের অফিস সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। তারপর থেকে বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল। প্রশাসনের তরফে সেটি সংস্কারের বিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কয়েকদিন আগে হঠাত্ই বাড়িটি ভাঙা শুরু হয়। 
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, শিশু অ্যাকাডেমিই উপেন্দ্রকিশোররের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি ভেঙে ফেলে বহুতল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও বাড়ি ভাঙার কথা জানাজানি হতেই সাহিত্যিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়ায়। অকারণে ময়মনসিংহ শহরের প্রাচীন বাড়িগুলিকে ভাঙা হচ্ছে বলে সরব হয়েছে সাধারণ মানুষও। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বাড়ি ভাঙার কাজ আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তবে তার আগেই বাড়িটির বেশিরভাগ অংশই ভাঙা হয়ে গিয়েছে।
উপেন্দ্রকিশোরের বাড়ি ভাঙার খবরে দুঃখপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন,  ময়মনসিংহ শহরে সত্যজিৎ রায়ের ঠাকুরদা, স্বনামধন্য সাহিত্যিক-সম্পাদক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর স্মৃতিজড়িত পৈতৃক বাড়িটি নাকি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এই সংবাদ অত্যন্ত দুঃখের। রায় পরিবার বাংলার সংস্কৃতির অন্যতম ধারক ও বাহক। উপেন্দ্রকিশোর বাংলার নবজাগরণের একজন স্তম্ভ। তাই এই বাড়ি বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তিনি আরও লেখেন, ‘আমি বাংলাদেশ সরকার ও ওই দেশের সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাছে আবেদন করব, এই ঐতিহ্যশালী বাড়িটিকে রক্ষা করার জন্য। ভারত সরকার বিষয়টিতে নজর দিন।’ মমতার টুইটের পরই বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয় দিল্লিও। কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, ভারত ও বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতীক এই বাড়িটি ভাঙার বিষয়টি ফের ভেবে দেখা হোক। প্রয়োজনে দিল্লি বাড়িটি সংস্কারের জন্য ঢাকাকে সাহায্য করতে প্রস্তুত।
হরিকিশোর রায় ছিলেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার মশুয়ার জমিদার। তিনি ময়মনসিংহ শহরে ওই বাড়িটি কিনেছিলেন। হরিকিশোর ছিলেন উপেন্দ্রকিশোরের পালক পিতা। সেই সূত্রে ওই বাড়িতে উপেন্দ্রকিশোর বসবাস করতেন বলে জানা গিয়েছে। একতলা বাড়িটি ১৯৮৯ সাল থেকে বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমি ব্যবহার করা শুরু করে। ২০০৭ সালের পর থেকে তারাও বাড়িটি আর ব্যবহার করেনি। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আধিকারিক সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, ‘বাড়িটি প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন হিসেবে তালিকাভূক্ত নয়। তবে সত্যজিত্ রায়ের পূর্বপুরুষদের বাড়ি হিসেবে ভবনটির গুরুত্ব রয়েছে। তাই এটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে তালিকাভূক্ত হতে পারে। আমরাও চাই বাড়িটি রক্ষা পাক।’

Advertisement

 

১৯৮৭ সালে সুকুমার রায়ের উপর তথ্যচিত্র করছিলেন বাবা (সত্যজিত্ রায়)। তখন একজনকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছিলেন বাড়িটার ছবি তুলতে। ছবি দেখে বাবা মর্মাহত হন। সেই ছবি তথ্যচিত্রে ব্যবহারও হয়নি। শুনেছিলাম বাড়িটি হেরিটেজ করা হবে। এখন কী অবস্থায় ছিল, তা জানি না। যা হচ্ছে, দুঃখজনক। সন্দীপ রায় চিত্র পরিচালক 

সম্পর্কিত সংবাদ